২৬ মার্চ, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পূর্বেই খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বাহাওয়ালপুর, করাচী, রাওয়ালপিন্ডি, সিন্ধু ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিষেক খেলায় ১৪৪ রান সংগ্রহ করেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুমে লাহোরে সাউদার্ন পাঞ্জাবের সদস্যরূপে নর্দার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে এ সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিলেন। টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে এমসিসি’র বিপক্ষে ১৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

১৯৫২ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রথম ১৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ও পাকিস্তানের প্রথমদিকের অন্যতম টেস্ট ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আব্দুল কারদার ও আমির ইলাহী ব্যতীত বাদ-বাকী সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭০ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অন্যতম দর্শনীয় ক্রিকেটার ছিলেন। ৯৯ রানের ইনিংস খেললেও টেস্টে কোন শতকের সন্ধান পাননি। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে লাহোর টেস্টে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে এ পর্যায়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের সূচনালগ্নে তিনি অনেকাংশেই খামখেয়ালীপণায় জড়িয়ে ছিলেন ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেন।

১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানী একাদশের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রথম দিনে দারুণ খেলা উপহার দেন। ওরচেস্টারে অনুষ্ঠিত খেলায় সোয়া দুই ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ১১১ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেছিলেন। ওরচেস্টারে সফলতা লাভের কারণে ঐ এলাকায় ক্লাবের পেশাদার ক্রিকেটারে পরিণত করতে সহায়তা করে।

টেস্ট ক্রিকেটে কদাচিৎ রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন। ট্রেন্ট ব্রিজে পাকিস্তানের পরাজয়ের প্রাক্কালে নিজেকে মেলে ধরতে প্রয়াস চালিয়েছিলেন। ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে বব অ্যাপলইয়ার্ডের বলে উপর্যুপরী দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বিদেয় নেন। গণমাধ্যমে তাঁকে ‘মেরি ম্যাক্স’ ডাকনামে আখ্যায়িত করে।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৫৫ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮১-৮২ মৌসুমে পাকিস্তান দল নির্বাচকমণ্ডলী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়াও, ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য নিউজের প্রথম ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ৪ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে ৭৩ বছর ২৮৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    লরেন্স রো

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জ্যামাইকার হুইটফিল্ড টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হাত ও চোখের অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    প্রকাশ ভাণ্ডারী

    ২৭ নভেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরে তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার একটি খেলায় দ্বি-শতকসহ নয় উইকেট দখল করেছিলেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিল তাঁর জীবন। সর্বদাই…

  • |

    ন্যাট থমসন

    ২৯ মে, ১৮৩৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৮৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১১…

  • | | |

    জিওফ রাবোন

    ৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে সাউথল্যান্ডের গোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    রুবেল হোসেন

    ১ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্পিনারদের আধিপত্যবাদের যুগে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তাঁর ফাস্ট বোলিংয়ের ধরন কিছুটা…

  • |

    অপূর্ব সেনগুপ্তা

    ৩ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাধর্মী অল-রাউন্ডার ছিলেন। তাসত্ত্বেও, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে অন্যতম বিভ্রান্তিকর খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…