|

মঞ্জুরুল ইসলাম, ১৯৮৪

৪ মে, ১৯৮৪ তারিখে খুলনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘রানা’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। তিন ভাইয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ পর্যায়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা’র সাথে একত্রে খেলতেন। ২০০০ সালে বরিশালের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দল তাঁকে যুক্ত করা হয়।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে বাংলাদেশে সফররত ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের উদীয়মান একাদশের একপেশে পরাজয়ের খেলায় কেবলমাত্র বামহাতি তরুণ স্পিনার হিসেবে সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। দুই উইকেট লাভের পাশাপাশি বিরাট রানের লক্ষ্যমাত্রায় ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, ৭ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। মোহাম্মদ রফিকের পরিবর্তে বাংলাদেশের শীর্ষ স্পিনারে পরিণত হন। নিজস্ব তৃতীয় বলে ইংরেজ অধিনায়ক মাইকেল ভনকে বিদেয় করেন। এরফলে, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে প্রথম ওভারেই উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ঐ খেলায় তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ০/২৬ ও ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১৮৩ রানে পরাজিত হয়।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ডিএল ভেট্টোরি’র উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১৬ ও ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিংনৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নেয়ার পর ২০০৬ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। প্রতিপক্ষ ইনিংস ও ৮৩ রানে জয় তুলে নেয়। ঐ টেস্টে ৬৩ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এছাড়াও, ব্যাট হাতে জোড়া শূন্য রানে বিদেয় নেন।

তুলনামূলকভাবে ওডিআইয়ে ভালো অবস্থানে ছিলেন। দুইবার একদিনের আন্তর্জাতিকে চার-উইকেট পান। উভয় ক্ষেত্রেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছিলেন। জানুয়ারি, ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐ সিরিজে সমতা আনয়ণে প্রভূতঃ ভূমিকা পালন করেন।

১৬ মার্চ, ২০০৭ তারিখে ২২ বছর ৩১৬ দিন বয়সে কনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে খুলনার কার্তিকডাঙ্গায় মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান। রাস্তার পার্শ্বে ‘চুই ঝাল’ খাবারের প্রত্যাশায় অপেক্ষাকালে মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তরঙ্গ বন্ধু ও খুলনার ক্রিকেটার সাজ্জাদুল হাসানসহ নিহত হন। পরদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশ দল ভারতকে পরাভূত করে। বাংলাদেশের অধিনায়ক এ জয়টি প্রয়াত রানা’র উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে। মৃত্যুর দুই বছর পর তাঁর পিতা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।

Similar Posts

  • | |

    প্রসপার উতসেয়া

    ২৬ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। সর্বদাই মিতব্যয়ী ধারালোমানের বোলিং সহযোগে অগ্রসর হতেন। হারারের শহরতলী এলাকা হাইফিল্ডের চিপেম্বেরে প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালীন প্রথমবারের…

  • |

    রড ল্যাথাম

    ১২ জুন, ১৯৬১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখান। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে সব মিলিয়ে চারটিমাত্র…

  • |

    হপার রিড

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে এসেক্সের উডফোর্ড গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অংশ নিতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩…

  • | |

    জ্যাক ব্ল্যাকহাম

    ১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ…

  • |

    স্যান্ডফোর্ড শ্যুলজ

    ২৯ আগস্ট, ১৮৫৭ তারিখে চেশায়ারের বার্কেনহেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৭৩ সালে আপিংহাম একাদশের পক্ষে খেলেছেন। চার বছর পর ডব্লিউ. এস. প্যাটারসন কর্তৃক কেমব্রিজ ব্লুধারী হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ…

  • |

    মোহাম্মদ আইয়ুব

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের নানকানা সাহিব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাঞ্জাব, শেখুপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও শিয়ালকোটের…