|

মন্টু ব্যানার্জী

১ নভেম্বর, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলার কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উপযুক্ত পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। ইডেন গার্ডেন্সের উপযোগী পরিবেশে বেশ সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে এ মাঠে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২৩ বছর বয়সে জামশেদপুরে বিহারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমবারের মতো সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৫/২৭ ও ২/৫২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন তিনি। ১৩ বছরের অধিক সময় নিয়ে মাত্র ২৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, ১৬টি খেলাই ঐ মাঠে খেলেছেন। ২১.৭২ গড়ে ৬৯ উইকেট পান। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৩.২৮ গড়ে ৯২ উইকেট দখল করেন।

দেরীতে হলেও ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড এবং ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁকে রাখা হয়। লালা অমরনাথের দল ডন ব্র্যাডম্যান ও তাঁর সঙ্গীদের হাতে বেশ নাকানি-চুবানির শিকারে পরিণত হয়। ইডেন গার্ডেন্সে সিকে নায়ড়ু, সৈয়দ মুশতাক আলীহীরালাল গায়কোয়াড়ের ন্যায় তারকাসমৃদ্ধ হোলকারের বিপক্ষে খেলে ৩/৪৭ ও ৭/৫০ লাভ করেন। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের সদস্যরূপে পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে ৪/৩৬ পান। তন্মধ্যে, পলি উমরিগড়বিজয় হাজারে’র উইকেট ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ অমিমাংসিত অবস্থায় থাকলে ইডেন গার্ডেন্সে গুলাম আহমেদসহ তাঁকে দলে রাখা হয়।

১৯৪৯ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজস্ব ৩০তম বয়সে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে নিজ শহর কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে গুলাম আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ৪/১২০ ও ১/৬১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। অধিনায়ক জন গডার্ড ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বোলিংয়ের প্রথমভাগেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ডেনিস অ্যাটকিনসনকে শূন্য রানে মিডল স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন ও অ্যালান রে’কে এলবিডব্লিউতে ১৫ রানে বিদেয় করেন। শেষ ভাগে ক্রিস্টিয়ানি ও ক্যামেরনের উইকেট পান। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই জর্জ ক্যারিওকে সাজঘরে পাঠান। এছাড়াও, কয়েকটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ফলাফলবিহীন অবস্থায় চলমান থাকে। এ পর্যায়ে উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, বলে চমৎকার পেস আনয়ণে ও গতির ভারসাম্যে সফলতা পান। সবমিলিয়ে দারুণ অভিষেক হয়। কিন্তু, বিস্ময়করভাবে তাঁকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলানো হয়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত খেলা চলমান রাখেন। এ মৌসুমেই অন্যতম সফলতম সময় অতিবাহিত করেন। ১৮.১৯ গড়ে ২৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ইডেন গার্ডেন্সে বিহারের বিপক্ষে ৭/৬৬, কটকে ওড়িশার বিপক্ষে ৬/৬৫ ও ইডেন গার্ডেন্সে সেমি-ফাইনালে মহীশূরের বিপক্ষে ৫/৬৮ লাভ করেন। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত খেলায় ব্যক্তিগত সেরা ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরের মৌসুমে ওড়িশার বিপক্ষে খেলেন। এরপূর্বে ইডেন গার্ডেন্সে সফররত কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে ২/৮৮ পান। জর্জ এমেট ও স্যাম লক্সটন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।

কলায় স্নাতকধারী হিসেবে কলকাতা কর্পোরেশনের সহকারী সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। রবি ব্যানার্জী নামীয় পুত্র বাংলা দলের পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নিয়েছেন। ৭৩তম জন্মদিনের মাসখানেক পূর্বে ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ৭২ বছর ৩১৮ দিন বয়সে কলকাতায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

মাধব আপ্তে’র সাথে আলাপচারিতায় জীবনের সাথে ক্রিকেটের তুলনা করেন। উভয়টিই ভাল ও মন্দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। দশ উইকেটকে বিষ্ণুর দশ অবতার ও ক্রিজকে লক্ষ্মণ রেখা হিসেবে চিত্রিত করেছেন। এছাড়াও, স্ট্যাম্পগুলোকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং বেইলকে ঐ তিনটির সময়সীমা হিসেবে যুক্ত করে রেখেছে। সেরা ক্রিকেটারগণ ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করলেও খুব কমই দার্শনিকভাবে ক্রিকেটের ব্যাখ্যা করে গেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট