|

মনোহর হার্দিকর

৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কার্যকর অল-রাউন্ডার বিবেচিত হলেও বড় আসরের ক্রিকেটে এর কোন প্রতিফলন ঘটেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলেন ও বোম্বের অধিনায়ক হিসেবে রঞ্জী ট্রফির উপর্যুপরী শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৯৫৮ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ‘চার অধিনায়কের অংশগ্রহণে সিরিজে’ টেস্টগুলো খেলেছিলেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। চান্দু বোর্দেগুলাম গার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ভারতের পরাজয় রুখে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। ষষ্ঠ উইকেটে গুলাবরায় রামচাঁদের সাথে ৮৫ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন। তিনি ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়াও, ঐ টেস্টে এলবিডব্লিউতে নিজস্ব তৃতীয় বলে রোহন কানহাইয়ের উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি। তবে, প্রথম ইনিংসে প্রথম বলেই তিনি বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে কানপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারত দল পরাজিত হয়। মাথায় গুরুতর চোট পান ও মারাত্মকভাবে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে। ঐ টেস্টে তিনি ১৩ ও ১১ রানের ইনিংস খেলেন। ২০৩ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি।

দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়াতে সক্ষম হলে দুই টেস্ট পর চিপকে খেলার জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হয়। কোটার রামস্বামী তাঁকে বিজয় মাঞ্জরেকরের পরিবর্তে দলে ঠাঁই দেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ বোম্বের শেষ ফ্লাইট ধরতে না পারার খেসারত গুণতে হয় তাঁকে। শেষ মুহূর্তে সার্ভিসেসের অপূর্ব সেনগুপ্তাকে দলে যুক্ত করা হয়।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে সর্বাপেক্ষা সাহসী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, বোম্বের ক্রিকেট জগতে উজ্জ্বীবনী শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৩ গড়ে ২৫৯২ রান সংগ্রহ করেছেন। স্লো-মিডিয়াম পেস ও অফ-ব্রেকের সংমিশ্রণে ৩২ গড়ে ৭৪ উইকেট দখল করেছেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় খ্যাতির তুঙ্গে চলে আসেন। বাংলা দলের বিপক্ষে ৩৯.১-২৭-৩৯-৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পরিসংখ্যানটি ১৭ মৌসুম রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ৩২ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে বিদেয় নেন। এ সময়ে রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ২৪৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় বোম্বে দল শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন ও ভিভি কুমারের বোলিং তোপে এক পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ১০৯/৫ হয়। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রান সংগ্রহের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। একনাথ সোলকারের সাথে জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে ২২৫/৫-এ নিয়ে যান। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে বোম্বে দল শিরোপা জয় করতে সক্ষম হয়। ঐ মৌসুমে দুইটি আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় অংশ নেন। নিজস্ব সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ শেষে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষিত হন।

নিজস্ব ৫৯তম জন্মদিনের চার দিন পূর্বে ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মার্টিন ফন জার্সভেল্ড

    ১৮ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ট্রান্সভালের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারিতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জার’ কিংবা ‘ভিজে’ ডাকনামে ভূষিত মার্টিন ফন জারসভেল্ড ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কার্যকর কৌশল অবলম্বনসহ চমৎকার…

  • | |

    রোস্টন চেজ

    ২২ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সঙ্কটকালীন তাঁর আবির্ভাব ঘটে। তবে, অনেকটা বয়স নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ…

  • | | |

    নীল হার্ভে

    ৮ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১.৭২ মিটার উচ্চতার অধিকারী। পরিবারের ছয় পুত্র সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। জ্যেষ্ঠ তিন ভ্রাতা ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিতেন। তন্মধ্যে, একজন মার্ভ…

  • |

    বুধি কুন্দরন

    ২ অক্টোবর, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের মাল্কি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহীশূর ও রেলওয়েজের…

  • |

    শুভাগত হোম

    ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বরিশাল…

  • |

    জো কক্স

    ২৮ জুন, ১৮৮৬ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ফিল্ডিংয়ে বেশ দূর্বলতার পরিচয় দেন ও সাধারণমানের নিচেরসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…