২৪ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করে চলেছেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। চাতুর্য্যতা সহকারে বিপজ্জ্বনক ও বৈচিত্র্যময় বামহাতি স্পিন বোলিং করে থাকেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট চিল ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস ক্লাব, সারাসেন্স স্পোর্টস ক্লাব, সিংহ স্পোর্টস ক্লাব ও শ্রীলঙ্কা পোর্টস অথরিটি ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডাম্বুলা ভাইকিংসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে কুরুনেগালায় অনুষ্ঠিত কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব বনাম সিংহ স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সর্বাপেক্ষা সেরা বোলারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় স্পিনারদের স্বর্গভূমি হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে স্পিনারদের প্রাচুর্যতায় ধারাবাহিকভাবে সফলতা লাভের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরেছেন স্ব-মহিমায়।
কলম্বোভিত্তিক লাম্বিনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এ সময়েই ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়াও, ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষেও কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের মুখোমুখি হয়েছেন। ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে এক ইনিংসের সবকটি উইকেট লাভে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন।
২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ মৌসুমের প্রিমিয়ার টুর্নামেন্টে সেরা বোলারের সম্মাননা লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৩.৭৯ গড়ে ৭৭ উইকেট দখল করে নিকটতম প্রতিযোগীর ২০-এর অধিক গড় থেকে বেশ এগিয়েছিলেন। ২৯ বছর বয়সে নিজ নামের পার্শ্বে ৫৫৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লিখিয়েছেন। এ ধরনের সফলতার কারণে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে পড়েন ও টেস্ট দলে যুক্ত হন।
২০১৭ থেকে ২০১৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ বছর বয়সে ৩ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্টে অভিষেকের পূর্বে তৎকালীন সর্বাধিক ৫৫৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। পরবর্তীতে তাবিশ খান ৫৯৮টি উইকেট নিয়ে তাঁর এ রেকর্ডটি নিজের করে নেন। দেরীতে অভিষেকের পাশাপাশি রঙ্গনা হেরাথের ন্যায় খেলোয়াড়ের উপস্থিতিও অনেকাংশে দায়ী ছিল। দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে দলে কেবলমাত্র একজন বামহাতি স্পিনারের অন্তর্ভুক্তিই যথেষ্ট ছিল। অল-রাউন্ডার হিসেবে কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১ রান ও ৭৮ গড়ে ২ উইকেট লাভ করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৩ রানে জয়ে পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। একই সফরের ৩১ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৬৪ ও ৩/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ৪২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৪২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
