২ এপ্রিল, ১৯৩২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
পাকিস্তানের ক্রিকেটের সূচনালগ্নে অন্যতম তারকা বোলার ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে হার না মানার মানসিকতার কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পূর্ব পাকিস্তান, করাচী, ন্যাশনাল টায়ার ও রাবার কোম্পানি এবং পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৫০-এর দশকে তিনজন দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারদের অন্যতম হিসেবে নতুন বল নিয়ে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফজল মাহমুদ, খান মোহাম্মদ ও মাহমুদ হোসেন – প্রত্যেকেই লাহোরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পাকিস্তানের শুরুরদিকে জয়ের পর আরও একটি বিখ্যাত জয়ে শহরবাসী তাঁদেরকে নিয়ে গর্বিত ছিলেন।
১৯৫২ থেকে ১৯৬২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে পাকিস্তানের উদ্বোধনী সিরিজ খেলতে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে ভারত সফরে যান। ২৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জুলফিকার আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে দলের প্রথম জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। আঘাতের কবলে পড়া খান মোহাম্মদের পরিবর্তে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিষেক টেস্টে চার উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ২৩ ওভারে ৩/৩৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৪ সালে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। খেলায় তিনি পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৪/৫৮ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে পড়াশোনা ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারেননি। তবে, ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সব মিলিয়ে পাঁচ উইকেট পান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৪৮ বোলিং করেছিলেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই অতিরিক্ত দায়ভার কাঁধে নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, প্রায়শঃই আঘাতের কবলে নিপতিত হতেন। তাসত্ত্বেও, সর্বদাই সেরা খেলাটি শেষ পর্যন্ত বহমান রাখতেন। অন্যান্য বোলারেরা বোলিং করা থেকে বিরত থাকলে অধিনায়কের পরামর্শক্রমে আরও একবার বোলিং চালিয়ে যেতেন।
১৯৬২ সালে জাভেদ বার্কি’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থ হলে খেলা থেকে অবসর নেন। ৫ জুলাই, ১৯৬২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১১৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ৬০ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৭৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। গ্রীষ্মকালে ওয়েম্বলিতে স্ব-গৃহে অবস্থানসহ সফলতম ব্যবসায়ী ছিলেন ও শীতকালে পাকিস্তানে অবস্থান করতেন। বিনয়ী প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে ৫৯ বছর ২৬৭ দিন বয়সে মিডলসেক্সের নর্থউইক পার্ক হাসপাতালে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় চিকিৎসারত অবস্থায় জীবনাবসান ঘটে।
