|

লুঙ্গি এনগিডি

২৯ মার্চ, ১৯৯৬ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। প্রাদেশিক ক্রিকেটে কোয়াজুলু-নাটালের অনূর্ধ্ব-১৩ দলে খেলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। দূর্দান্ত খেলা উপহার দেন। বহুমূখী বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি পেয়েছেন। বোলিং উদ্বোধনের পাশাপাশি শেষের ওভারগুলোয়ও দারুণ বোলিং করে থাকেন। ঘণ্টাপ্রতি ক্রমাগত ১৪০ কিলোমিটারের অধিক গতিবেগে বোলিংয়ে স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। শর্ট পিচের বলে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্নস ও টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, চেন্নাই সুপার কিংস, ডলফিন্স কাবস, পোর্ট এলিজাবেথ বিশ্ববিদ্যালয় ও তশোয়ান স্পার্টান্সের পক্ষে খেলেছেন। ৫ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত নর্দার্নস বনাম বর্ডারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

খুব শীঘ্রই ২০১৫ সালের আফ্রিকা টি২০ কাপে নর্দার্নস টি২০ দলে যুক্ত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১২.৫০ গড়ে ছয় উইকেট দখল করে দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরপর, ২০১৬ সালে আফ্রিকা টি২০ কাপে বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৫ সালের আফ্রিকা টি২০ কাপে অসাধারণ খেলার সুবাদে টাইটান্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। দলের সাফল্যে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন।

২০১৭ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে দুই উইকেট পান ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম ২৩ খেলা শেষে ৩৬ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। এ পর্যায়ে প্রতি ১৩ বল থেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন। আইপিএলে তিনি নিজেকে আরও এগিয়ে রেখেছেন। প্রতি দুই ওভারে একটি করে উইকেটের সন্ধান পান ও ১৪ খেলা থেকে ২৫ উইকেট দখল করেছেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ বছর বয়সে ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। আবারও তিনি পেস ও বাউন্সে প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। এ পর্যায়ে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র উইকেটসহ ৬/৩৯ পান। প্রথম ইনিংসে অবশ্য ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

একই সফরের ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। তবে, বেশ ব্যয়বহুল বোলিং করেন। ৬ ওভারে ৪৭ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। আঘাত তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়ে। পেশীতে টান পড়ায় ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কয়েকটি খেলায় অংশ নিতে পারেননি।

২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২০২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১৯ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে জেসন হোল্ডারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২২ সালের আইপিএলের নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০২২-২৩ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮২ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৪ সালে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ১/২৬ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জেডেন সিলসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

Similar Posts

  • | |

    হান্সি ক্রোনিয়ে

    ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ব্লোমফন্তেইনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ফ্রি স্টেট ও…

  • | |

    হেনরি উড

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৬ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, সারে…

  • | |

    নিরোদ চৌধুরী

    ১৪ মে, ১৯২৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহারের জামশেদপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকাল থেকেই সর্বক্রীড়ায় তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ক্রিকেট, ফুটবল ও উচ্চ লম্ফে বেশ দক্ষ ছিলেন। মোহনবাগানের পক্ষে ফুটবল খেলায়…

  • |

    সাঈদ আজমল

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নেমেও কার্যকর ভূমিকার স্বাক্ষর রাখতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • | |

    ক্রিস মার্টিন

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলে পেস বোলিং করতেন ও সিম আনয়ণে ব্যাটসম্যানের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণেও তিনি সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।…

  • | | |

    বেভান কংডন

    ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮ তারিখে তাসমানের মতুয়েকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালনসহ তুখোড় নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং কৌশল গ্রহণের অধিকারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে নিজেকে যথোচিত মেলে ধরতেন। বেশ…