২৩ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে মানাওয়াতুর ড্যানভার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড – দুই প্রতিবেশী ক্রিকেট দলের পক্ষাবলম্বন করে অনবদ্য উপমা গড়েন। এছাড়াও, একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুই দেশের পক্ষে খেলেছেন। সব মিলিয়ে চারটি ওডিআই ও তিনটি টি২০আইয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, একটি ওডিআইয়ে ৩৭ বলে ৭৬ রান তুলেছিলেন।
‘রক’ ডাকনামে পরিচিত লুক রঙ্কি ১.৮০ মিটার উচ্চতার অধিকারী। শৈশবে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এডমন্টন রয়্যালস, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০০৮ থেকে ২০১৮ সময়কালে চারটিমাত্র টেস্ট, ৮৫টি ওডিআই ও ৩৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, সবগুলো টেস্টই নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাসুলভ মনোভাব বজায় রাখতেন। টেস্ট ক্রিকেটে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। অংশগ্রহণকৃত ৪ টেস্ট থেকে ৪০-এর কম গড়ে রান পেয়েছেন। ওডিআইয়ে সাত নম্বর অবস্থানে থেকে ১৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরফলে, তৎকালীন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন।
আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলার অল্পদিন পরই অস্ট্রেলিয়া দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২০ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন। ২২ বল মোকাবেলায় ৩৬ রান তুলেছিলেন। অল্প কয়েকদিন পর ২৭ জুন, ২০০৮ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত একই দলের বিপক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে, পরবর্তী বছরগুলোয় তেমন সুযোগ না পাবার ফলে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই নিউজিল্যান্ডের ওডিআই ও টি২০আই দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ তছনছ করে ফেলেন। ডুনেডিনে ৯৯ বল থেকে ১৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। তবে, নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ব্যর্থতার পরিচয় দেন। নয় খেলা থেকে মাত্র ৭৩ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন।
একই বছর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। ২৯ মে, ২০১৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮৮ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে বিজে ওয়াটলিংয়ের সাথে সফরকারীদের ১৯৯ রানের বিজয়ে যথোচিত ভূমিকা রাখেন। ঐ সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এছাড়াও, পরের বছর ভারতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দলের সদস্য ছিলেন।
শেষের বছরগুলোয় প্রায়শঃই শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৮ ও ৮০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৮ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ঐ টেস্টে ০ ও ১৫ রান তুলেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৪ জুন, ২০১৯ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের কোচিং কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন।
