৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিশ্রুতিশীল উদীয়মান তরুণ ব্যাটসম্যান হিসেবে অপরিসীম সম্ভাবনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। কিশোরদের ক্রিকেটে বোলারের তুলনায় ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিক সুনাম কুড়ান। তবে, জাতীয় পর্যায়ে খেলতে নেমে কিছুটা ব্যাটিংয়েও স্বাক্ষর রাখেন। হারারের গ্লেন ভিউ এলাকায় পাড়ার ক্রিকেটে তাঁর অমিত সম্ভাবনা দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। শুরুতে, পিতা-মাতা বিদ্যালয় জীবনের চেয়ে খেলার মাঠে সন্তানের অবস্থানকে কোনক্রমেই মেনে নিতে পারেননি।
কিন্তু, কিশোরের আন্তরিক বিশ্বাসবোধ ছিল। ১৬ বছর বয়সে শয়নকক্ষে ২০ বছরের পূর্বেই জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন লিখে রাখেন। পরবর্তীতে তাঁর এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। জীবনের কেন্দ্রস্থলে ক্রিকেটকে নিয়ে যাওয়ায় চার্চিল হাই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষাকালীন বড় ধরনের বাঁধা অতিক্রম করেন। শুরুতে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের সদস্যরূপে নামিবিয়া সফর করেন। এরপর, ১৬ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন। ৯ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মাসভিঙ্গোতে অনুষ্ঠিত তুস্কার্স বনাম রক্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৪ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৭ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার কয়েক সপ্তাহ পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরফলে, বড় ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও বাদ পড়েন। জিম্বাবুয়ের উদীয়মান অল-রাউন্ডার হিসেবে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব থাকেন ও দেশের পতাকাতলে খেলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে থাকেন। সকল প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে ঐ বছরের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে নিজ দেশে খেলার জন্যে মনোনীত হন। পরবর্তীতে আবারও বাদ পড়েন। এরপর থেকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অবিরত।
২০২১ সালে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৭ মে, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। ঐ টেস্টে তিনি ১/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
এলটন চিগুম্বুরাকে নিজের পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থানে রেখেছেন।
