৭ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘকায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী ও সুইং বোলিং করেন। টোটো সতসবে ও ডরোথি সতসবে দম্পতির সন্তান। নমসেবেঞ্জী সতসবে নাম্নী বোন রয়েছে। ওয়েন পার্নেল ও মর্নে মরকেলের সাথে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। পেসে ও শেষদিকে বলকে ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্স, ইস্টার্ন প্রভিন্স, গটেং, লায়ন্স ও ওয়ারিয়র্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৪ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে পার্লে বোল্যান্ড বনাম ইস্টার্ন প্রভিন্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে অভিষেক মৌসুমে তাৎক্ষণিক প্রভাববিস্তার করেন। ১৭.৭৫ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। পরের মৌসুমে ওয়ারিয়র্সে চলে যান। এখানে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট হন ও নিজেকে বোলার হিসেবে পরিপক্ক করে তুলেন। তিনবার পাঁচ-উইকেট ও একবার দশ উইকেটসহ ৪৯ উইকেট পেয়েছিলেন। দারুণ খেলার সুবাদে ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে তাঁকে জাতীয় দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ৬১টি ওডিআই ও ২৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ৩০ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে পার্থে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৫০ লাভ করেন। এরফলে, তাঁকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ করা হয়।
আঘাতপ্রাপ্ত ওয়েন পার্নেলের অনুপস্থিতিতে ২০১০ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০১০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৮ ও ১/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৬৩ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮* ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮২ ও ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উত্থান-পতনের মাধ্যমে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটে। টেস্ট দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ না পেলেও ওডিআই ও টি২০আইয়ে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার দলের সদস্য ছিলেন। সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত দলের উত্তরণ হলেও তিন খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কোন উইকেট না পাবার খেসারত গুণতে হয়। ওয়েন পার্নেলকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। উভয় স্তরের ক্রিকেটে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ বোলারদের অন্যতম হিসেবে পরিণত করেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের আবির্ভাবে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন।
২৪ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে সিএসএ তাঁর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ আনে। লায়ন্সের সদস্যরূপে ২০১৫-১৬ মৌসুমের র্যাম স্ল্যাম টি২০ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় খেলা গড়াপেটার সাথে জড়িত হন। ৩৩ বছর বয়সে এসে ১১ জুলাই, ২০১৭ তারিখে আট বছরের জন্যে ক্রিকেট খেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হন।
