৯ মার্চ, ১৯৪৪ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নির্ভিকচিত্তে ব্যাটিং করতেন ও আক্রমণাত্মক স্ট্রোকপ্লে মারতেন। উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে সরব উপস্থিতির কারণে সমসাময়িকদের তুলনায় নিজেকে বেশ এগিয়ে রেখেছিলেন। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স আমন্ত্রিত একাদশের সদস্যরূপে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন তারকাসমৃদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্সের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। খেলায় ৪৮ ও ১৮ রান তুললেও প্রায় তিন বছর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ঐ খেলার শুরুতে উইকেট-রক্ষক হিসেবে অংশ না নিলেও একটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। এরপর, নাটালের পক্ষে ব্যাপক সংখ্যায় রান তুলতে থাকেন। সাহসীকতার সাথে ব্যাটিং করতেন ও প্রায়শঃই অবিশ্বাস্য পেসের বিপক্ষে রান তুলতেন।
১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নর্থ-ইস্টার্ন ট্রান্সভালের বিপক্ষে অপরাজিত ১৯৭ ও তারকাসমৃদ্ধ ট্রান্সভালের বিপক্ষে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ মৌসুমে ৫৬.০০ গড়ে ৫০৪ রান তুলেন। অনেকটা বিস্ময়করভাবে এসেক্সের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
প্রথম মৌসুমে অনেকাংশেই সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩২.৭০ গড়ে ১৪৩৯ রান তুলেন। ৫০ ইনিংস থেকে ২৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। প্রথম মৌসুমে কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ব্যাট হাতে আগ্রাসী ভঙ্গীমায় ব্যাটিংয়ের কারণে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ঐ বছর দেশে ফিরে আসেন। ৪২.২৫ গড়ে ৫০৭ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষিত হন। পরের মৌসুমে এসেক্সের পক্ষে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের বিদঘুঁটে নীতির কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যারি রিচার্ডস, ডেনিস গ্যামসি ও গ্রাহাম শ্যাভলিয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪২ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭৯ ও ৭৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জন গ্লিসনের শিকারে পরিণত হন। সফরকারীরা ৩০৭ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৯ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ২৫ ও ১০২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এসেক্সে অবস্থানকালীন অবসর সময়ে রোহন কানহাইকে সাথে নিয়ে ফুটবল খেলা উপভোগ করতেন।
