|

লাসিথ এম্বুলদেনিয়া

২৬ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। রঙ্গনা হেরাথকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। রঙ্গনা হেরাথের ন্যায় তিনিও টেস্টভুক্ত সকল দেশের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করার স্বপ্ন দেখেন। ধারাবাহিকতা ও নিখুঁতভাবে বজায় রেখেছে অগ্রসর হচ্ছেন।

২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্যান্ডি তুস্কার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে খেলতে শুরু করেন। খেলায় দ্রুত উত্তরণ ঘটান। ২০১৮ সালের সুপার ফোর প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে কলম্বো দলের সদস্য ছিলেন। এরপর, এসিসি এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা দলে খেলার উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত হন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০১৯ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। শীর্ষস্থানীয় স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা’র আঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ ঘটে। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওশাদা ফার্নান্দো’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে পাঁচ-উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার অনবদ্য বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ১/৫১ ও ৫/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৪ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুশল পেরেরা’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সুন্দর খেলা উপহার দেন। এ পর্যায়ে তিনি ব্যক্তিগত সেরা ৭/১৩৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৭৩ পান। এছাড়াও, ৭ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৭ ও ৫/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তবে, দিমুথ করুণারত্নে’র অধিনায়কসূলভ অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার প্রধান বোলারের মর্যাদা পান। নিখুঁত ও সরল পন্থায় বোলিং ভঙ্গীমায় অংশ নিতেন। লেগ-স্পিনারের যাবতীয় গুণাবলী বিদ্যমান। দ্রুতগতিতে খেলা শেখার পাশাপাশি প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পারেন। উচ্চতার কারণে উল্লেখযোগ্য বাউন্স আদায় করতে সমর্থ হয়েছেন।

Similar Posts

  • | | |

    জো রুট

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। হেলেন ও ম্যাট রুট দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে শেফিল্ড কলেজিয়েট সিসি’র পক্ষে খেলেছেন। এ…

  • |

    পল স্টার্লিং

    ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে বেলফাস্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ইনিংস উদ্বোধনের সুযোগ পেয়ে বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতে সচেষ্ট হন। এছাড়াও, কার্যকর অফ-স্পিন বোলিং করে সতীর্থ জর্জ ডকরেলের সাথে বেশ সাযুজ্য বজায় রাখছেন। বিখ্যাত…

  • |

    ইয়ান চ্যাটফিল্ড

    ৩ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে মানাওয়াতোর ডানভির্কে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সজীব বোলিং করতেন। তবে, তাঁকে সর্বদাই স্যার রিচার্ড হ্যাডলি’র সাফল্যে ম্লান হয়ে থাকতে হতো। তাসত্ত্বেও, উভয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখতেন। নিখুঁতমানের বোলিং করে ১৯৮০-এর দশকে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী…

  • | |

    পার্সি ম্যানসেল

    ১৬ মার্চ, ১৯২০ তারিখে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জেসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাত্র তিন মাস তিন দিন বয়সে পরিবারের সাথে রোডেশিয়ায় চলে আসেন ও এরপর থেকে বুলাওয়েতে রয়ে…

  • |

    লেল্যান্ড হোন

    ৩০ জানুয়ারি, ১৮৫৩ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাগবি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, আয়ারল্যান্ড জেন্টলম্যান ও ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। ১৮৭৪ সালে আই জিঙ্গারি আসলে তিনি নিখিল আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১২জন নিয়ে গড়া দলে…

  • |

    ফাহিম মুনতাসির

    ১ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘সুমিত’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বামহাতি স্পিনারদের আধিপত্য থাকলেও অফ-স্পিনার…