১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শক্তসমর্থ ও মজবুত গড়নের অধিকারী। ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরেই নিজেকে সকলের সমক্ষে পরিচিতি ঘটান। যুবদের টেস্টে ১৮.৩০ গড়ে ১৩ উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, নর্দাম্পটনে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৭/৮২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৫২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লে ছয় বছরের মধ্যে নিজে দেশে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথম পরাজয়ের কবলে পড়ে।
ক্যান্ডিভিত্তিক ট্রিনিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডাম্বুলা ভাইকিং ও মাতারা ডিস্ট্রিক্টের পক্ষে খেলেছেন। ৪ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা ‘এ’ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
সব মিলিয়ে আট দিন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো খেলাই শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। এরপর অক্টোবর, ২০১৬ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলার উদ্দেশ্যে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ব্যাপক অর্থেই তাঁর মাঝে প্রতিশ্রুতিশীলতার লক্ষণ দেখা যায়। শ্রীলঙ্কায় অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার। চমৎকার গতিতে তীক্ষ্ণ ধাঁচের বাউন্স মারতে পারেন। বলকে উভয় দিক দিয়েই সুইং ও সিম আনয়ণে সক্ষম।
২০১৬ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। দুষ্মন্ত চামিরা, নুয়ান প্রদীপ ও ধম্মিকা প্রসাদের আঘাতগ্রস্ততার কারণে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ঘটে। ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আসেলা গুণারত্নে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ক্রিস এমপফু’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯০ ও ২/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্রায়েম ক্রিমারের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ২২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে টি বাভুমাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪৫। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। পেস ও বলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিউল্যান্ডসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ শ্রীলঙ্কান বোলার হিসেবে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান। খেলায় বল হাতে নিয়ে ৬/১২২ ও ১/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ২৮২ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২২ ফেব্রয়ারি, ২০২১ তারিখে কোভিড-১৯ ভাইরাসে নেতিবাচক ফলাফল আসে। ফলশ্রুতিতে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে দলের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ গমন করেন। দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অপূর্ব খেলেন। সব মিলিয়ে ঐ সিরিজে ১২.৬৩ গড়ে ১১ উইকেট লাভ করে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন ও দলের ২-০ ব্যবধানের বিজয়ে অংশ নেন।
২০২৪ সালে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/১০১ ও ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
