৫ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে মারাদানা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘নয়া’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। নতুন বল নিয়ে পেস ও সুইং সহযোগে বেশ চমৎকার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার অনুপযোগী পিচেও বলকে সুইং করানোয় সক্ষমতা অর্জন করেছেন। বেশ বয়স নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
কিশোর বয়স থেকে ক্রিকেটের সাথে যুক্ত রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলছেন। ১৮ বছর বয়সে ২০০৬ সালে পুলিশ স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ঐ খেলায় ২ ওভার বোলিং করেছিলেন ও ২০ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পূর্বে শ্রীলঙ্কান ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব, পুলিশ স্পোর্টস ক্লাব, তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, সিংহ স্পোর্টস ক্লাব এবং বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।
২০১৪ সালে ডারহামের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অভিষেক ঘটে। এ পর্যায়ে ভাগ্য ও কৃতিত্বের সাথে জড়িয়ে পড়েন। দূর্দান্ত হ্যাট্রিকসহ ৫/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। দলের শীর্ষস্থানীয় বোলারদের অনুপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। ২ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কটকে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। কেবলমাত্র আম্বতি রাইডুকে বিদেয় করে ৯ ওভারে ১/৫৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। পরবর্তী ৪ খেলায় অংশ নিয়েও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর থেকে মাঝে-মধ্যে শ্রীলঙ্কার পক্ষে খেলেছেন। তবে, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন।
তিন বছর পর ২৯ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ আসে। দিবা-রাত্রির টেস্টে মূলতঃ নুয়ান প্রদীপের আঘাতের কারণে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সাদিরা সামারাবিক্রমা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিন উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ শতকের সুবাদে শ্রীলঙ্কা দল ৬৮ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
টেস্ট ও ওডিআইয়ে সফলতা লাভের ফলে ২০১৭ সালে ভারত গমনার্থে শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য হন। ঐ সিরিজে সাত উইকেট দখল করলেও ৫৬.৫৭ বেশ গড়ে ৩৯৭ রান খরচ করেছিলেন।
২০১৭ সালের শেষদিকে সুপার ফোর প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে দশ উইকেট লাভ করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। ২০১৮ সালে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ জুন, ২০১৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/৬৭ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শেন ডোরিচের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
