১৭ আগস্ট, ১৯৯০ তারিখে কালুবইলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতি ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যাট কিছুটা উঁচুতে তুলে ধরেন। শক্তিশালী বাহুর গড়ন ও নির্ভিকচিত্তে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা সনথ জয়সুরিয়া’র কৌশল অবলম্বন করতেন। এক পর্যায়ে দৃশ্যতঃ তাঁর বিকল্প হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। দ্রুতলয়ে রান তোলার কারণে সবিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবেও নিজেকে আবির্ভুত করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সনথ জয়সুরিয়া’র ন্যায় তিনিও আরেকটি বিষয়ে দক্ষ ছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম বোলিংয়ের বিপরীতে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। এরপর, বড়দের কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। কোল্টসে থাকাকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে আগ্রাসী ভূমিকা গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বস্ততার প্রতীক হন। দুই মৌসুম বাদেই শ্রীলঙ্কার জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, রুহুনা ও ওয়েয়াম্বার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, ক্যান্ডি তুস্কার্স, রাজস্থান রয়্যালস ও সাউদার্ন এক্সপ্রেসের পক্ষে খেলেছেন। ২ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর কোল্টসে অনুষ্ঠিত কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব বনাম রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১৩ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। কুমার সাঙ্গাকারা’র আঘাতের কারণে শ্রীলঙ্কার সীমিত-ওভারের দলে যুক্ত হন। গাব্বায় নিম্নমূখী রানের খেলায় ২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে স্বীয় প্রতিভার স্ফূরণ ঘটান। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও পরবর্তী দুইটি টি২০ খেলায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সুযোগ পান। এ পর্যায়েও বিরাট প্রভাববিস্তার করেন। একই সফরের ২৬ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সিডনিতে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।

নিজ দেশে ফিরে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রকেট গতিতে ২৭৫ বলে ৩৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জনে সমর্থ হন ও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে উপনীত হন। সীমিত-ওভারের খেলাগুলোয়ও রান সংগ্রহে তৎপর হন। ২০১৪ সালে মিরপুরে নিজস্ব প্রথম ওডিআই শতক হাঁকান। এরফলে, স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে ৩-০ ব্যবধানে ধবল ধোলাই করে শ্রীলঙ্কা দল। এরপর, জানুয়ারি, ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ বলে দূর্দান্ত অর্ধ-শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, সনথ জয়সুরিয়া’র সাথে শ্রীলঙ্কার যৌথ দ্রুততম অর্ধ-শতরানের রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করান।

এর এক মাস পর ২০১৫ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সাবেক শ্রীলঙ্কান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিদাথ ওয়েতিমুনি তাঁকে টেস্ট ক্যাপ প্রদান করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ৫৫ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান হিসেবে অভিষেক টেস্টে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, চেতেশ্বর পুজারা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১১৭ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে আইসিসি সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এরপর, নিউজিল্যান্ড সফর থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে, ভারতের বিপক্ষে দ্বি-পক্ষীয় টি২০ সিরিজ, এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। মে, ২০১৬ সালে এ অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পান।

২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫১ ও ১৫৩* রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কার অনবদ্য বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। চতুর্থ ইনিংসে বিশ্ব ফার্নান্দো’র সাথে দশম উইকেটে ৭৮* রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কা দলের অতিনাটকীয় জয়ে ভূমিকা রাখেন। এ অবস্থানে তাঁরা রেকর্ড গড়েন। এরফলে, একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন স্টোকস – জ্যাক লিচের মধ্যকার ৭৬* রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ২২৪ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট