|

কেএস রণজিৎসিংজী

১০ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সরোদর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো-বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রাজকুমার কলেজে অধ্যয়ন করেন। তাঁর পরিবার শাসক পরিবারের সাথে যুক্ত ছিল। নয়ানগরের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত হবার প্রশ্নে তিনি নির্বাচিত করা হয়। তৎকালীন শাসকের এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে ১৮৮৮ সালে প্রধানশিক্ষক মি. ম্যাকনটেনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে চলে যান। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন। তবে, সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেননি। পরবর্তীতে, ক্রিকেট সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ছোট্ট রাজ্য নয়ানগরের শাসকরূপে বিরাট প্রভাব ফেলেন। যখনই খেলতে গেছেন দর্শকদের বিরাট অংশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। রান সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁর খেলার ধরনও এতে প্রভাব ফেলেছিল।

ভারতে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট খেলেছিলেন। ইংল্যান্ডে আসার পর ওভালে অস্ট্রেলীয়দের খেলা দেখার পর আবারও খেলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। কেমব্রিজে স্থানীয় দলগুলোর সাথে খেলতেন ও স্থানীয় পেশাদার কোচদের শরণাপন্ন হলে তাঁর ব্যাটিংয়ের বেশ উত্তরণ ঘটে। কেমব্রিজের ক্রিকেট জগতে তাঁকে ঘিরে আলোচনা চলতে থাকে। তবে সহসাই কলেজে কিংবা কেমব্রিজ দলে তাঁকে যুক্ত করা হয়নি। কেমব্রিজ অধিনায়ক এফএস জ্যাকসন ১৮৯২-৯৩ মৌসুমের শীতকালে ভারত গমনার্থে তাঁকে দলের সদস্য করেন। ১৮৯৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুধারী হন। দুই বছর পর ১৮৯৫ সালে সাসেক্সে যোগ দেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৩ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। লর্ডসে সারের সদস্যরূপে নিজস্ব প্রথম খেলায় এমসিসির বিপক্ষে অপরাজিত ৭৭ ও ১৫০ রান তুলে দর্শকদের বিমোহিত করেন।

১৮৯৬ থেকে ১৯০২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট পনেরো টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৪৪.৯৫ গড়ে ৯৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুলাই, ১৮৯৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট খেলার গৌরব অর্জন করেন। ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে ডব্লিউজি গ্রেসের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে শতক হাঁকিয়ে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। এছাড়াও, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে শতরানের ইনিংস খেলেন। তৃতীয় দিন সকালে পূর্বদিনে সংগৃহীত ৪১ রানের সাথে ১০৩ মিনিটে আরও ১১৩ রান যুক্ত করেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ১৫৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ খেলার প্রথম ইনিংসে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের মাটিতে এইচ গ্রাহামকে অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজস্ব প্রথম টেস্টে শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭৫ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। 

১৯০২ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯০২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হিউ ট্রাম্বলের শিকারে পরিণত হন। ৩ রানের নাটকীয় জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৬.৩৭ গড়ে ২৪৬৯২ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৩৪.৫৯ গড়ে ১৩৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৮৯৭ সালে ক্রিকেটের অন্যতম ধ্রুপদীশৈলীর পরিচায়ক গ্রন্থ ‘দ্য জুবিলি বুক অব ক্রিকেট’ প্রকাশ করেন। একই বছর উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ১৯০৭ সালে কর্নেল মহামহিম শ্রী স্যার রণজিৎসিংজী বিভাজী, মহারাজা নয়ানগরের জাম সাহেব পদবীপ্রাপ্ত হন। ভারতের জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা তাঁর নামানুসারে ‘রঞ্জী ট্রফি’ রাখা হয়।

২ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জামনগর প্রাসাদে ৬০ বছর ২০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র কেএস দিলীপসিংজী ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।

Similar Posts

  • |

    জ্যাক ওরেল

    ২০ জুন, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার চায়নাম্যান্স ফ্লাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেটে কার্লটনের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম একাদশের পক্ষে ৪৫টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে মেলবোর্নভিত্তিক ইস্ট…

  • | |

    জেফ মস

    ২৯ জুন, ১৯৪৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গ্রুচো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১১ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। মেলবোর্ন, নর্থ মেলবোর্ন ও পাহরানের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    রন হামেন্স

    ২৫ নভেম্বর, ১৯১৫ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হিন্ডমার্শ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটারের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। জানুয়ারি, ১৯৩১ সালে অ্যাডিলেডে এ-স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন। এরফলে, ১৫ বছর ৬৭ দিন বয়সে…

  • |

    ডেনিস মরকেল

    ২৫ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের প্লামস্টিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। চমৎকারভাবে বলকে অফের দিকে ঠেলে দিতেন। এছাড়াও, যে-কোন ধরনের বোলিংয়ের…

  • | | |

    কিথ ফ্লেচার

    ২০ মে, ১৯৪৪ তারিখে ওরচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ‘নোম’ ডাকনামে ভূষিত কিথ ফ্লেচার ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্রিকেটীয় প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। আকর্ষণীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম ছিল।…

  • |

    ট্রাভিস ফ্রেন্ড

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী, শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘চাঙ্কস’ কিংবা ‘টেস্টোস্টারোন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলার হিসেবে খেলতেন। পাশাপাশি, ব্যাট…