|

কেনি বার্ন

১৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৬২ তারিখে তাসমানিয়ার রিচমন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ক্লাব ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ও ইস্ট হোবার্টের পক্ষে খেলে আশাতীত সাফল্য পান। ছাব্বিশ মৌসুম খেলে ৩১ শতক সহযোগে ১১৪৫০ রান তুলেন। তন্মধ্যে, আটটি দ্বি-শতক ও দুইটি ত্রি-শতক ছিল। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে উপর্যুপরী ছয় ইনিংসে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। একই মৌসুমে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে ব্রেক ও’ডে ক্লাবের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৩ ও অপরাজিত ২১৩ রান তুলেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে ১৩৩ গড়ে ১২০০ রান তুলে অস্ট্রেলীয় ক্লাব ক্রিকেটে রেকর্ড গড়েন।

ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ সালে ওয়েলিংটনের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ডারওয়েন্টের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে দলকে ৭০২ রানে নিয়ে যান। নভেম্বর, ১৮৯৯ সালে ৩৬১ রান তুলে ডারওয়েন্টের বিপক্ষে তাঁর আধিপত্য অব্যাহত রাখেন। ডোমেইনের অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে উভয় ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, ৩৫৪ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৮৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে তাসমানিয়ার তারকা ব্যাটসম্যানের খ্যাতি লাভ করেন। প্রায় বিশ বছর দলটির অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৮৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৮৯০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হিউ ট্রাম্বল, জ্যাক বারেট, পার্সি চার্লটনসিড গ্রিগরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অদ্ভূতভাবে এড়িয়ে যাওয়া ভুল সত্ত্বেও টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তাঁকে দলে মনোনীত করার বিষয়টি দলের ভিত গড়নে একটি মারাত্মক ভুল ছিল। এ সফরে ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিত জ্যাক ব্ল্যাকহামকে খেলানো হয়নি। বরঞ্চ দীর্ঘ সফরে দলে বিকল্প উইকেট-রক্ষককে খেলানোর বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হয়। চার ইনিংস থেকে ৪১ রান তুলতে পেরেছিলেন।

এরপর, ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে সফরকারীরা ২ উইকেটের নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০ জুলাই, ১৯৫৬ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে ৯৩ বছর ৩০৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুপূর্ব পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্টে ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। টিসিএ গ্রাউন্ডের পশ্চিমদিকের প্রবেশদ্বারের নামকরণ তাঁর নামানুসরণে রাখা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট