| |

কেন বিলজোয়েন

১৪ মে, ১৯১০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের উইন্ডসরটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ব্যাটিংয়ে নেমে পূর্ণাঙ্গ সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। অন-সাইডে বলকে ঠেলে দিতে ও কাট করতে ভালোবাসতেন। বেশ রক্ষণাত্মক ধাঁচ অবলম্বনে খেলায় অগ্রসর হতেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে খেলতেন। মূলতঃ ব্যাট হাতে নিয়েই অধিক সফল ছিলেন বিশেষতঃ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনবার ইংল্যান্ড সফরে যান ও দুইবার সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বব নিউসন, সিড কার্নো ও জেন বালাস্কাসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭ ও ৪৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৮১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৩৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত অসীম সময়ের টেস্টে সফররত ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রেজ পার্কসের শিকারে পরিণত হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৭ সালে সাসেক্সের বিপক্ষে চার ঘণ্টারও কম সময় নিয়ে ২০১ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে এফ. জি. মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২-৫৩ ও ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৫২ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ফিল্ডিংয়ের উপর জোর দেন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে ট্রান্সভালের ক্রুজার্সডর্প এলাকায় ৬৩ বছর ২৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    সোহরাওয়ার্দী শুভ

    ২১ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। গতিসম্পন্ন বামহাতি অর্থোডক্স বোলিং করেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে পছন্দের বোলারদের তালিকায় সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। স্বল্পকালীন সময় বাংলাদেশ দলে অবস্থান করে সীমিত পরিসরে…

  • |

    হিউ টেফিল্ড

    ৩০ জানুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। ‘টোই’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। বলকে তেমন বাঁক খাওয়াতেন না। পেসে ভিন্নতা আনয়ণে সচেষ্ট থাকতেন। জিম লেকার কিংবা ল্যান্স…

  • |

    ফজল-ই-আকবর

    ২০ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • |

    হপার রিড

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে এসেক্সের উডফোর্ড গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অংশ নিতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩…

  • |

    জ্যাসউইক টেলর

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শীর্ণকায় হলেও মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন ও প্রাণবন্তঃ পেস বোলিং করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিক থেকেই পিঠের সমস্যায় জড়িয়ে…

  • |

    রাসেল এনডিন

    ৩১ মে, ১৯২৪ তারিখে ট্রান্সভালের পার্কভিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সাউথ আফ্রিকা সিক্সথ আর্মার্ড ডিভিশনে থেকে মিশর ও ইতালিতে দায়িত্ব পালন করেন। পঞ্চাশের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে…