১২ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে প্রকৃত মানসম্পন্ন প্রতিযোগীধর্মী উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের সুনাম কুড়ান। তবে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ তথৈবাচৈ ছিল। ১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ১৯২৩ সাল থেকে ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ওয়েলিংটনের পক্ষে বেশ কয়েকটি শতক হাঁকান ও বিশ্বস্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতেন। তবে, দলের সঙ্কটময় মুহূর্তে প্রায়শঃই অমূল্য ভূমিকা পালন করলেও ইংল্যান্ডে তা করতে পারেননি। ১৯৩৮ সালে নর্দাম্পটনশায়ারে অবস্থানকালীন নিজস্ব তৃতীয় মৌসুমেই কেবলমাত্র নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। এ মৌসুমে দুই শতক সহযোগে সহস্র রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। উইকেট-রক্ষক হিসেবে বেশ উচ্চমার্গীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে অন্যতম হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা ছিল। এরফলে, আধুনিক ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় তাঁর এ ভূমিকা বেশ প্রশ্নবোধকের পরিবেশ সৃষ্টি করে। নর্দাম্পটনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সহায়তাকারী স্বদেশী ডব্লিউ.ই. মেরিটের বল দক্ষতার সাথে গ্লাভসবন্দী করতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণভাবে সফল হলেও টেস্টে তা ধরে রাখতে পারেননি। এ স্তরের ক্রিকেটে ছয় সহস্রাধিক রান ও চার শতাধিক ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন।
টম লরি’র নেতৃত্বে ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের সহকারী উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হন ও নর্দাম্পটনশায়ারে দারুণভাবে উইকেট-রক্ষণে সম্পৃক্ত থাকেন। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে স্ট্যাম্পের পিছনে দণ্ডায়মান থাকতেন না। নিজেকে টেস্ট খেলার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলেন। ১৯৩১ সালে দ্বিতীয় সফরেও নিজেকে মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে যান। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযু্দ্ধকালীন আরএনজেডএএফে যোগ দেন ও পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন।
১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। অ্যাল্বি রবার্টস, স্টুই ডেম্পস্টার, টেড ব্যাডকক, জর্জ ডিকিনসন, হেনরি ফোলি, ম্যাট হেন্ডারসন, কার্লি পেজ, রজার ব্লান্ট, টম লরি ও বিল মেরিটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়েছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩১ সালে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বিল বোজের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র ৪.৭২ গড়ে রান পেয়েছেন ও মাত্র ১৬টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন।
২১ আগস্ট, ১৯৭৬ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় ৭২ বছর ১৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
