| | |

কেন ক্রান্সটন

২০ অক্টোবর, ১৯১৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের এইগবার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটানোর পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘদেহের অধিকারী। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রথম মৌসুমেই দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সচরাচর ইনিংসে শুরুতে ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন। ব্যাট হাতে তিনটি শতক সহযোগে প্রায় ৪০-এর কাছাকাছি গড়ে রান ও ২৩ গড়ে উইকেট পেয়েছেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। মাত্র ১৩টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়ার পর ১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ক্লিফ গ্ল্যাডউনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সিরিজের হেডিংলিতে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের এক পর্যায়ে এক ওভার থেকে চার উইকেট (উই-উই-উইউই) দখল করেছিলেন।

এরপর, ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যাথল রোয়ানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৫ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমের শীতকালে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন দলের সহকারী অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। জাহাজেই আঘাতের কবলে পড়লে গাবি অ্যালেনের পরিবর্তে সিরিজের প্রথম টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। জর্জ হ্যাডলি’র সাথে টস করতে মাঠে নামেন। ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। দলের সদস্যরা আঘাতে জর্জড়িত ছিল। এরফলে, পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে খেলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেনি ইংরেজ দল ও এ সফরে বেশ হিমশিম খায়।

১৯৪৮ সালে নিজ দেশে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন শক্তিধর অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৪৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫১ ও ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৪৮ সাল শেষে ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলায় ছন্দহীনতাসহ দন্তচিকিৎসা পেশায় ব্যস্ত ছিলেন। কয়েকটি প্রদর্শনী খেলায় অংশগ্রহণ করে প্রতিশ্রুতিশীল প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান।

ক্রিকেটের পাশাপাশি হকি খেলায় পারদর্শী ছিলেন ও ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ৫১টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী সময়ে বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নেলসনের পক্ষে লীগ ক্রিকেট খেলতেন। মাঝে-মধ্যে এমসিসি ও ফ্রি ফরেস্টার্সের পক্ষে খেলতে নামতেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডকে ঘিরেই খেলতে পছন্দ করতেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ম্যান্ডি মিচেল-ইন্সের মৃত্যুর ফলে ১১ দিনের জন্যে ইংল্যান্ডের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ৮ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে ৮৯ বছর ৮০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল

    ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সিরিজ বিজয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অনেকটা সহজাত প্রকৃতির ক্রিকেটার ছিলেন। পিতা ইয়ান কিশোর দলের কোচ ছিলেন ও ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার…

  • |

    মার্ক ভার্মুলেন

    ২ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারেভিত্তিক প্রিন্স এডওয়ার্ড হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। কিন্তু, ২০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ভিবি সিরিজে ভারতীয় বোলার ইরফান পাঠানের বল মাথায় আঘাত…

  • | |

    বিলি বেটস

    ১৯ নভেম্বর, ১৮৫৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লাসেলস হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষ অফ-স্পিনার হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। সহজাত প্রতিভার অধিকারী বোলার হিসেবে বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৮৮১…

  • | | | |

    ইয়ান হিলি

    ৩০ এপ্রিল, ১৯৬৪ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের স্প্রিং হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…

  • | |

    দীপক সোধন

    ১৮ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ছিলেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকের ফুলঝুঁড়ি ছোটাতেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    কাইল জার্ভিস

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও পেশীবহুল শারীরিক গড়নের অধিকারী। শুরুতে এবড়ো-থেবড়ো পেস বোলিং করলেও পরবর্তীতে শীর্ষ প্রতিপক্ষীয়দের বিপক্ষে বেশ ধ্বংসাত্মক বোলিং উপহার দেন। জিম্বাবুয়ের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ম্যালকম…