৮ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে ওয়েস্টার্ন কেপের পার্ল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

‘কেপি’ ডাকনামে পরিচিত। আগ্রাসী ধাঁচে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করেন। বোল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে নিজেকে প্রাদেশিক দলে জায়গা করে নেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড ও কেপ কোবরাজ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে পার্লে অনুষ্ঠিত বোল্যান্ড বনাম নর্থ ওয়েস্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর তিনদিনের প্রতিযোগিতায় ৪৮.২৫ গড়ে ৯৬৫ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক ছিলেন। একই মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ধরনের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সিএসএ পুরস্কার হিসেবে তিনদিনের ক্রিকেটে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে কেপ কোবরাজের পক্ষে খেলেন। তবে, ঐ মৌসুমে মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ধারাবাহিকতার অভাবে দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হতে পারেননি। ঐ মৌসুমের শীতকালে ল্যাঙ্কাশায়ারের রিড ক্রিকেট ক্লাবে খেলেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমের গ্রীষ্মে চারটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, দুইটি একদিনের খেলা ও তিনটি টি২০ খেলায় অংশ নেন। তবে, প্রথম একাদশে ঠাঁই পেতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। ২০১৮ সালেও তেমন ভালো খেলেননি। নাইটসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি নিম্নমূখী রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

২০২১ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০২১ সালে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কাইল ভেরিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ডারহামের পক্ষে সাতটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নেবার পর জুন, ২০২২ সালে পারিবারিক কারণে অনেকটা বেশ আগেভাগেই দেশে ফিরে যান। দলটির পক্ষে ১১ ইনিংস থেকে দুইটি অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। তবে, ঐ গ্রীষ্মের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেন।

২০২২-২৩ মৌসুমকে ঘিরে ক্রিকেট সিএসএ কর্তৃক প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় আসেন। এরপূর্বে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ২-১ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজ জয় করে। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঐ সিরিজে ৬১ গড়ে ২৪৪ রান তুলে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেএল রাহুলের দূর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১১৩ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এছাড়াও, জানুয়ারি, ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আইসিসি মাসিক সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের প্রমিলা ক্রিকেটার হিদার নাইটের সাথে তিনি ভোটের মাধ্যমে মনোনীত হন।

২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রচিন রবীন্দ্রের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ২৮১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, উইলিয়াম ও’রোর্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খেলায় ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট