১৯ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে সেন্ট মার্টিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২৫ বছর বয়সে মে, ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরের জন্যে মনোনীত হন। এরফলে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার সুযোগ পান। ৩১ মে, ২০২২ তারিখে আমস্টেলভিনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে তাঁর অভিষেক ঘটলেও ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে অংশ ছিল না। তবে, দ্বিতীয় ওডিআইয়ে নিখুঁত ৪৩* রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
অনেক পূর্বেই তিনি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিয়ে ৫২* রান সংগ্রহ করে ভারতের বিপক্ষে ঐ প্রতিযোগিতার একমাত্র জয় এনে দিয়েছিলেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে সফলতাপ্রাপ্তির দুই সপ্তাহ পর লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে অ্যাঙ্গুইলা, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে কুভায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরের মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এ স্তরের ক্রিকেটে প্রথম শতরানের সন্ধান পান ২০১৮-১৯ মৌসুমে।
তবে, ২০২০-২১ মৌসুমে সুপার৫০ কাপ প্রতিযোগিতায় ৫৪.২৫ গড়ে রান সংগ্রহ করলে তাঁকে ওডিআই দলে ঠাঁই দেয়া হয়। প্রথম এগারোটি ওডিআইয়ের পাঁচটিতে চমৎকার সূচনা করলেও বড় অঙ্কের রান সংগ্রহে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। অবশেষে, ২০২৩ সালে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেকে মেলে ধরেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৭ রান সংগ্রহ করেও দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। এরপর, ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ড ও মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অর্ধ-শতরানের সন্ধান পান। দৃশ্যতঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝারিসারিতে ভিত্তি মজবুতকরণে নিজের সামর্থ্যতা প্রকাশ করেছেন।
২০২২ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪ সালে নিজ দেশে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জেসন হোল্ডারের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ লাভ করেন। খেলায় তিনি ৪২ ও ৩১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কেশব মহারাজের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয়ক্ষেত্রেই সাজিদ খানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
