|

কর্ণ শর্মা

২৩ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, রেলওয়ে ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে রেলওয়ের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৩ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে দিল্লির কার্নাইল সিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল জম্মু ও কাশ্মীর দল। অভিষেক খেলাটিতে শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়ে ১২০ রান তুলেছিলেন।

কয়েক বছর তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তবে, ২০১২-১৩ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে দারুণ খেলে নিজেকে সকলের সম্মুখে নিয়ে আসেন। তিন খেলা থেকে ১৯.০৪ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, পূর্বতন শিরোপাধারী দল রাজস্থানের বিপক্ষে খেলা থেকে আট-উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, অনূর্ধ্ব-২৫ ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা হিসেবে বিসিসিআই পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সদস্য হিসেবে আইপিএলে যুক্ত হন। অনিল কুম্বলে’র নেতৃত্বে দলটি রানার্স-আপ হয়েছিল। তবে, ঐ মৌসুমের কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি। ২০১৪ সালের নিলামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ কর্তৃপক্ষ ₹৩.৭৫ কোটি ভারতীয় রূপীর বিনিময়ে কিনে নেয়। অমিত মিশ্রের সাথে কার্যকর স্পিন বোলিং জুটি গড়েন। ১৩ খেলা থেকে ওভারপ্রতি ৬.৬ রান খরচ করে ১১ উইকেট দখল করেন।

পরের মৌসুমে হায়দ্রাবাদের সদস্যরূপে ১৪ খেলা থেকে ১৫ উইকেট পান। তন্মধ্যে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে তৎকালীন ব্যক্তিগত সেরা ৪/৩৮ লাভ করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৪ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে চলে যান। ২০১৭ সালের আইপিএল নিলামে ভারতের সর্বাধিক দামী খেলোয়াড়ে পরিণত হন। এ পর্যায়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ₹৩.২ কোটি ভারতীয় রূপীতে তাঁকে কিনে নেয়। এ আসরে ৯ খেলা থেকে ১৩ উইকেট পান। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/১৬ পান।

মুম্বইয়ের শিরোপা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রেকর্ডসংখ্যক তৃতীয় শিরোপা লাভকালীন নয় খেলা থেকে ১৩ উইকেট দখল করেন। ওভারপ্রতি ৬.৯৭ গড়ে রান খরচ করেন। রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন দল থেকে ছাড়পত্র পেলে ২০১৮ সালের নিলাম চেন্নাই সুপার কিংস ₹৫ কোটি ভারতীয় রূপীতে তাঁর সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পুরো মৌসুমে ছয় খেলায় অংশ নিয়ে চার উইকেট দখল করেন ও ওভারপ্রতি ৯.৩৬ রান খরচ করেন। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও হরভজন সিংকে পাশ কাটিয়ে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ৩ ওভারে ১/২৫ পান।

২০১৪ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, দুইটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হন। ১৩ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/১৪৩ ও ২/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৪ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, নাথান লায়নের অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪৮ রানে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    জেমস সাউদার্টন

    ১৬ নভেম্বর, ১৮২৭ তারিখে সাসেক্সের পেটওর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সাসেক্সের পেটওর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণের পরের বছরই তাঁর পরিবার মিচামে চলে যায়। পিতা ১৮৪১ সালে মারা যান ও সেন্ট পিটার এন্ড পল চার্চে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মাতা শার্লট ১৮৫১…

  • | | |

    অ্যাশলে ডি সিলভা

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। শ্রীলঙ্কা দলে মানসম্পন্ন…

  • |

    মনোহর হার্দিকর

    ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    নাইমুর রহমান

    ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে রাজধানী ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছে। খ্যাতনামা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথমদিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঐ সময়ে বিকেএসপি থেকে বের হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের খেলাধূলায় অংশগ্রহণে অনিশ্চিত থাকলেও পেশাদারী…

  • |

    লেন টাকেট

    ১৯ এপ্রিল, ১৮৮৫ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯-১০ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    সিকান্দার বখ্ত

    ২৫ আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ফাস্ট মিডিয়াম বোলার ছিলেন। অধিকাংশ পিচেই প্রাণবন্তঃ পেস বোলিং করতেন। সহজাত আউট-সুইঙ্গারে অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের কাছেই সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ঐ সময়ে সেরা বোলারদের…