১০ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে বরিশালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাটিং উপযোগী পিচেই খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকের সময়কাল অতিবাহিত করেছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে বরিশাল বিভাগ ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফরচুন বরিশাল, খুলনা টাইগার্স, রাজশাহী রয়্যালস ও সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে বগুড়ায় সিলেট বিভাগ বনাম বরিশাল বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।
জনৈক সাব-ইন্সপেক্টরের সন্তান ছিলেন ও ভবিষ্যতে বন কর্মকর্তা হতে চেয়েছিলেন। ওয়াসিম আকরামকে নিজের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে দারুণ খেলেন। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার-উইকেট লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলে ঠাঁই পান। ঐ প্রতিযোগিতায় বেশ ভালো ফলাফল করেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে বাংলাদেশ দলকে প্লেট চ্যাম্পিয়নশীপে জয় এনে দেন। এরপর, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিরে আসেন। এনসিএলে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন ও পরবর্তীতে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে অংশ নেন।
২০০৭-০৮ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। শীর্ষ স্তরের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলার জন্যে মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। ফলে, এ পর্যায়ে বোলিং উপযোগী জুতো লাভ করেন। ২০০৮ সালে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে বেশ তরুণ বয়সে তাঁর অভিষেক হয়। ৩/৩৩ লাভ করেন। অভিষেকের পর থেকে বরিশাল বিভাগের প্রধান বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে থাকেন। রুবেল হোসেনের ন্যায় তিনিও পেসার-হান্ট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদের দৃষ্টিগোচরে পড়েন।
২০১০-১১ মৌসুমের এনসিএলে অংশ নিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ২৩.৭৮ গড়ে ১৯ উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি। তবে, এরপর থেকেই অন্যান্য পেস বোলারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হিমশিম খেতে থাকেন। বিপিএলের তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০১৬ থেকে ২০১৮ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নভেম্বর, ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার জন্যে ১৪-সদস্যের তালিকায় তাঁকে রাখা হয়। তবে, কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ইতোমধ্যে ৪৭টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে। জনি বেয়ারস্টো’র উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল মাত্র ২২ রানে পরাজিত হয়েছিল। এ সিরিজে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। স্পিনারদের উপযোগী পিচে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজে তিনি মাত্র একটি উইকেট লাভে সক্ষম হয়েছিলেন।
২০১৭ সালের শুরুতে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও বল হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ২০১৮ সালে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ জুলাই, ২০১৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সর্বশেষ খেলেন। ৩৭ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। স্বাগতিক দল ১৬৬ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
