|

কাগিসো রাবাদা

২৫ মে, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিতা এমফো রাবাদা ও মাতা ফ্লোরেন্স আইনজীবি। অ্যাটলগং রাবাদা নামীয় ভ্রাতা রয়েছে। ক্ষীপ্রগতি ও ভীতিদায়ক বাউন্স প্রদানে পরিচিতি লাভ করেছেন। ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৮ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা দলের প্রথম শিরোপা বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন ও অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬/২৫ লাভ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং ও লায়ন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও জজি স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ মার্চ, ২০১৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত গটেং বনাম ইস্টার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেকের পর থেকে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করেন ও তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৭ সালের আইপিএলের আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস তাঁকে ৫ কোটি রূপীর বিনিময়ে খেলার জন্যে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।

২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৯ বছর বয়সে ৫ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির পর থেকে নিজেকে দলের অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত করতে সচেষ্ট হন।

১০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ঐ খেলায় হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেক ওডিআই এ কৃতিত্বের অধিকারী হন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৫ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৩০ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১ রান করে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে সফরকারীরা ১০৮ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

সেঞ্চুরিয়নে নিজের পঞ্চম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাত-উইকেট লাভ করেছিলেন। একই মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এসসিজে ব্রডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/১৭৫। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৭৮ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২৪ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে পার্থের ওয়াকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ২/৭৮ ও ৫/৯২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে এফডিএম করুণারত্নে’র দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে ৪/৩৭ ও ৬/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ বোলিং দাপটে স্বাগতিকরা ২৮২ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০১৬ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যথাক্রমে আইসিসি ওডিআই ও টেস্ট বোলারদের র‌্যাঙ্কিং তালিকায় এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছেন। তন্মধ্যে, ২০১৮ সালে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টেস্টে ১৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে দশ উইকেট লাভ করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন ও ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ’র তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫/৩৩ ও ৫/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫৪ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৩০ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৫৩ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে চাদ সেয়ার্সের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৪৯২ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। এ সিরিজে ৭৪ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২৩ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৩৮ ও ১/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। ২০১৯ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক পাকিস্তানের হাসান আলীকে বিদেয় করে ২০০তম টেস্ট উইকেট লাভ করেন। এরজন্যে তাঁকে ৮১৫৪ বল করতে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘কোন যাদুকরী প্রভাব ছিল না। বরঞ্চ, ক্লান্তিহীন পরিশ্রমই তাঁকে এ কৃতিত্ব লাভে ভূমিকা রেখেছে।’

২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ৫/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৩০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/২৬ ও ৬/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। কাইল ভেরিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৩৭ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, তাঁকে দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। টনি ডি জর্জি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭৩ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ১৪ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩১* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ০/৩৫ ও ২/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৫৫ ও ৩/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬* রান সংগ্রহ করেন। রায়ান রিকেলটনের দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভের পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৬০ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।

২০১৬ ও ২০১৮ সালে সিএসএ বর্ষসেরা ক্রিকেটার, সিএস বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার, সিএসএ বর্ষসেরা ওডিআই ক্রিকেটার, সিএসএ প্লেয়ার্স বর্ষসেরা খেলোয়াড়, ফ্যান্স বর্ষসেরা খেলোয়াড়সহ ২০১৮ সালে উইজডেন বিশ্বের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন।

Similar Posts

  • |

    ইকবাল সিদ্দিকী

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    অসি ডসন

    ১ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ তারিখে নাটালের রসবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দৌঁড়ুতে বেশ পটু ছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    নিরোদ চৌধুরী

    ১৪ মে, ১৯২৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহারের জামশেদপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকাল থেকেই সর্বক্রীড়ায় তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ক্রিকেট, ফুটবল ও উচ্চ লম্ফে বেশ দক্ষ ছিলেন। মোহনবাগানের পক্ষে ফুটবল খেলায়…

  • |

    থারিন্ডু কৌশল

    ৫ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদেহী অফ-স্পিনার। বলকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব…

  • | | |

    মোহাম্মদ ইউসুফ

    ২৭ আগস্ট, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা লাভ করেছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে পাকিস্তানের টেস্ট ও ওডিআইয়ে সর্বাধিক…

  • | |

    ল্যারি গোমস

    ১৩ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে ত্রিনিদাদের অ্যারিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম পেস কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কুলবয়েজ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…