২ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কুইন্সটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘কেম্পি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। দলের নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণে নিজেকে সম্পৃক্ত করতেন। এক পর্যায়ে তাঁকে ল্যান্স ক্লুজনারের সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। তবে, অমিত সম্ভাবনাকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স, ইস্টার্ন প্রভিন্স ‘বি’, নর্দার্নস, টাইটান্স, কেপ কোবরাজ ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার ও কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফ্রিকা একাদশ, অ্যান্টিগুয়া হকসবিলস, চেন্নাই সুপার কিংস, নশুয়া টাইটান্স, হায়দ্রাবাদ হিরোজ ও টাইটান্সের পক্ষে খেলেছেন। ইস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে নর্থ ওয়েস্টের বিপক্ষে ১৮৮ রান তুলেন। এক পর্যায়ে এক ওভার থেকে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ৮৫টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২০ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করলেও বল হাতে নিয়ে ৫২ রান খরচায় ৫ উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১১৯ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। শন পোলকের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। ২০০১ সালে ত্রি-দেশীয় সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় ৩/২০ পান। রাহুল দ্রাবিড় ও যুবরাজ সিংয়ের উইকেটসহ ৩/২০ লাভ করে দলকে জয় এনে দেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্রাড হজের দূর্দান্ত প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৬ সালে কেপটাউনে নিজস্ব প্রথম তিন অঙ্কের রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন। ভারতের বিপক্ষে দলের সংগ্রহ ৭৬/৬ থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে ৮৯ বল থেকে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ২৭৪ রানে নিয়ে যান। ঐ খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৬ রানে জয়লাভে সমর্থ হয়।
২০০৮ সালে অনুমোদনহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে হায়দ্রাবাদ হিরোজের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১০ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে খেলেন।
২৯ মার্চ, ২০১৬ তারিখে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন।
