২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট জেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস রয়্যালস, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস, বার্বাডোস অনূর্ধ্ব-১৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। ৪ এপ্রিল, ২০১৪ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনে পদার্পণ ঘটান।
৩৭টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ৪৬টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলায় অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ জাস্টিন গ্রিভস অবশেষে টেস্ট দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একটি শতক ও সাতটি অর্ধ-শতকসহ ২৬.৯৭ গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, চারবার পাঁচ-উইকেট নিয়ে ২২.৭৬ গড়ে ৭৬ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
২০২১-২২ মৌসুম থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের উভয়টিতে অংশ নেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে অ্যাডিলেডের কারেন রোল্টন ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টে শামার যোসেফ ও কেভাম হজের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ বল হাতে ২/৩৬ লাভ করেন। উসমান খাজা’র ক্যাচ স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান আলিক অ্যাথানেজ মুঠোয় পুড়লে নিজের প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৬ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করে দলের ৮ রানের নাটকীয় বিজয়ে অংশ নেন। এরফলে দীর্ঘ ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বহুল প্রত্যাশিত প্রথম জয়ের সন্ধান পায় ক্যারিবীয় দল। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। অপ্রত্যাশিত বিজয়ে ব্রায়ান লারা ও কার্ল হুপার – উভয়েই আনন্দের আতিশয্যে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। ঐ সিরিজে ১৭.০০ গড়ে ৬৮ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩৭.৬৬ গড়ে ৩ উইকেট দখল করেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয়ক্ষেত্রেই নোমান আলী’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ০ ও ২০২* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৫ ও ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
