৮ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্যামওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, সেন্ট জর্জ ও সিডনি সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন।
বেশ আগেভাগে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। গ্লেন ম্যাকগ্রাকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ১৭ বছর বয়সে ১৩ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত নিউ সাউথ ওয়েলস বনাম নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন।
২০১০ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ১৯ বছর বয়সে ২২ জুন, ২০১০ তারিখে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। খেলায় তিনি ৫/৬৮ ও ২/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলনায়ক স্টিভ স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলে দলে বিরাট প্রভাব ফেলেন। দলের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন। খেলায় সাত উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ঐ খেলায় তাঁর দল ৪ উইকেটে জয়লাভ করতে সমর্থ হয়।
২০১৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে চার টেস্ট থেকে ১৬ উইকেট দখল করেন। তবে, শারীরিক কারণে শেষ খেলায় অংশগ্রহণ করেননি।
২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৭ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের এটিই প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ছিল। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে টিএ বোল্টকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৩৮। এ পর্যায়ে এলআরপিএল টেলরের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/৬৬ ও ৬/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ফিরতি সফরে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৪২ ও ২/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অ্যাডাম ভোজেসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫২ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫৫ ও ৩/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে ২১ উইকেট পেয়েছিলেন। ঐ সিরিজে অজিরা ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয় করে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলের শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
২০২৩-২৪ মৌসুমে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৮ মার্চ, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫/৩১ ও ১/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৫ সালে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ৪ রান করে উভয় ক্ষেত্রে আলজারি যোসেফের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩২ ও ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭৬ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
গ্লেন ম্যাকগ্রা’র সাথে পরিসংখ্যানগত কিছু বিষয়ে মিল লক্ষ্য করা যায়। টেস্টে উভয়েই ২১ বছর বয়সে প্রথম খেলতে নামে। ৪৬ ইনিংস থেকে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করলেও ‘পিজিওন’ এক ইনিংস কম খেলেছিলেন।
২০১৫ সালে আইসিসি’র বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হন।
