| |

জনি ডগলাস

৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২ তারিখে লন্ডনের ক্ল্যাপটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও মুষ্টিযোদ্ধা ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকের মিডলওয়েট বক্সিং বিভাগে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

অনেকের কাছে উজ্জ্বীবিত প্রাণের অধিকারী না হলেও তাঁর অসম্ভব সাহসী ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। বলে বেশ সুইং আনতে পারতেন। ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২৭ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ২৬টি শতক হাঁকিয়েছেন। তন্মধ্যে, একটি শতক টেস্টে পেয়েছেন। ১৯০১ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। এসেক্সের অবিসংবাদিত বীর হিসেবে ২৮ গড়ে ২৪৫৩১ রান ও ২৩ গড়ে ১৮৯৩ উইকেট পেয়েছেন। ১৯২১ সালে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ৯/৪৭ লাভের পর দলের সংগ্রহ ৬১/৬ থেকে ৩৯৬/৯-এ নিয়ে যান। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ২১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর ২/০ লাভ করেন।

১৯১১ থেকে ১৯২৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিল মিড, ফ্রাঙ্ক ফস্টার, ইয়ং জ্যাক হার্ন ও সেপ কিনিয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৩২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রঞ্জি হরডার্নের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬২ ও ৪/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রঞ্জি হরডার্নের বলে ৯ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৩ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় চলে আসে।

একই সফরের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের বলে শূন্য রানে বিদেয়ে নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২২৫ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৮ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৪ ও ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে এমসিসি দলের নেতৃত্বে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৫ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৯ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দলের সিরিজ বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে অবশ্য যুদ্ধ শেষে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে মোটেই রুখে দাঁড়াতে পারেনি তাঁর দল। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে প্রথমবারের মতো ধবল ধোলাইয়ের শিকার হন। তবে, অধিনায়ক হিসেবে সব মিলিয়ে ৮ জয়ের বিপরীতে সমসংখ্যক খেলায় পরাজয়বরণ করে তাঁর দল।

১৯২০-২১ মৌসুমে এমসিসি দলকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫০ ও ৬০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই আর্থার মেইলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের নোঙ্গরে পৌঁছে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১১ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৪ লাভ করেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৪-২৫ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৫ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮১ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সর্বক্রীড়ায় পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল ও মুষ্টিযুদ্ধে বেশ দক্ষ ছিলেন। ১৯০৫ সালে ন্যাশনাল স্পোর্টিং ক্লাবে অ্যামেচার বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন মিডলওয়েটের শিরোপা লাভ করেন। এরপর, ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে বেশ খ্যাতি লাভ করেন। এছাড়াও, করিন্থিয়ান্স ও ক্যাজুয়ালসের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে অ্যামেচার ফুটবল অ্যালায়েন্সে অংশ নিয়েছেন।

খেলা থেকে অবসর গ্রহণের মাত্র চার মাস পর তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে ডেনমার্কের লেইসো ট্রিন্ডেল লাইটশীপের সাত মাইল দক্ষিণে মাত্র ৪৮ বছর ১০৭ দিন বয়সে তাঁর সলিলসমাধি ঘটে। ফিনল্যান্ড থেকে ফেরার পথে ঘন কুয়াশায় দুইটি জাহাজের সংঘর্ষের কবল পড়লে স্বীয় পিতার প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে তিনি £২৭,৭৫২ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান।

Similar Posts