|

জন নিয়ুম্বু

৩১ মে, ১৯৮৫ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সম্মুখসারিতে ডানহাতে অফ-স্পিন বোলিং করেন। কঠোর পরিশ্রমী বোলার হিসেবে পরিচিত। দলীয় অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রিমারের সাথে বোলিং জুটি গড়ে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স ও ওয়েস্টার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত মাতাবেলেল্যান্ড বনাম ম্যাশোনাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ১৯টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ডোনাল্ড তিরিপানো’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত অভিষেক টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। তবে, এর জন্যে তাঁকে অবশ্য ১৫৭ রান খরচ করতে হয়েছিল। এরফলে, দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ীয় বোলার হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। খেলায় তিনি ৫/১৫৭ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।

পরবর্তীতে, ১৭ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে বুলাওয়েতে একই দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। তবে, বেশ দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। দশ খেলায় অংশ নিয়ে ৩৭.৬৩ গড়ে মাত্র ১১ উইকেট দখল করেন। এরফলে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টের পর তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। ঐ সিরিজে জিম্বাবুয়ে দল ৫-০ ব্যবধানে ধবল ধোলাইয়ের শিকার হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দশ বছর খেলার পর জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দায়িত্ব বেশ ভালোভাবে সামাল দেন ও কার্যকর ধীরগতিসম্পন্ন বোলারে নিজেকে পরিণত করেন। প্রায় দুই বছর দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে পাশ কাটিয়ে সিকান্দার রাজা ও শন উইলিয়ামসকে প্রাধান্য দেয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে যথাক্রমে ২৪.৪২ গড়ে ২১ উইকেট ও ১৮.৪৫ গড়ে ১১ উইকেট পান। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার ফলে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুইটি টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষার শিকার হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই সুন্দর খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। দলকে প্রো৫০ চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। ফলশ্রুতিতে, পুণরায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।

২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৬ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, ঐ খেলায় ব্ল্যাকক্যাপেরা ২৫৪ রানে জয় তুলে নেয় ও ৭৪৮ রান সংগ্রহে মাত্র ৬ উইকেট খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ১২৯ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট ছিল।

জিম্বাবুয়ের লোগান কাপে অসাধারণ অফ-স্পিনার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট ছিলেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। লিঙ্কনশায়ার কাউন্টি বোর্ড প্রিমিয়ার লীগে গ্রান্থাম ক্লাবের পক্ষে খেলেন। অসাধারণ খেলে ১৩.৭৭ গড়ে ৫২ উইকেট ও ২২.৪৭ গড়ে ৩৮২ রান তুলেন।

Similar Posts

  • |

    চার্লস ম্যারিয়ট

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের হিটন মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জন্ম নিবন্ধনে তিনি চার্লি স্টোওয়েল ম্যারিয়ট নামে পরিচিত। ‘ফাদার’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ…

  • | |

    গ্যারি কার্স্টেন

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রন্ডেবশ বিএইচএসে অধ্যয়ন করেন। এরপর, কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম…

  • |

    জন হ্যাস্টিংস

    ৪ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘দ্য ডিউক’ ডাকনামে ভূষিত জন হ্যাস্টিংস ১.৯৫ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। শৈশবকালে রাগবিতে আকৃষ্ট ছিলেন। পরবর্তীতে ক্রিকেটের…

  • |

    বেঙ্কটরমন সুব্রাহ্মণ্য

    ১৬ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘাকায় ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও দক্ষতার ছাঁপ রেখেছেন। এছাড়াও, ক্রিজের কাছাকাছি এলাকায় নিরাপদ দূরত্ব নিয়ে ফিল্ডিং…

  • |

    নাভেদ আশরাফ

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, রাওয়ালপিন্ডি ও রেডকো পাকিস্তান লিমিটেডের…

  • |

    গ্লেন ফিলিপস

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপের ইস্ট লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। অন্যতম উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। এক পর্যায়ে…