২৭ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাঝে-মধ্যে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বামহাতে স্পিন বোলিং করে উইকেটের সন্ধান পেতেন। ‘মিস্ট্রি’ ডাকনামে পরিচিতি পান ও তাঁর সাফল্যে কুলকিনারা খুঁজে পাওয়া যেতো না। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরী করে স্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হতেন। কোন অবস্থানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। কিছু সময় ইনিংস উদ্বোধনে খেলেছেন ও পরবর্তীতে মাঝারিসারিতে চলে যান। শীর্ষসারিতে ব্যাটিংকালে তাঁকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। তাসত্ত্বেও, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজের সেরা ইনিংস উপহার দেন।
১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্ট ও ১৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে কোন টেস্টেই তাঁর দল জয়ের সন্ধান পায়নি। দশ টেস্টে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন ও বাদ-বাকী টেস্টগুলোয় মাঝারিসারিতে নামতেন।
১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ব্রায়ান অ্যান্ড্রুজের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৪ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিখুঁতমানের ১১৭ রান তুলেন। ৪৪ রান সংগ্রহকালীন পূর্বতন সর্বোচ্চ রানকে ছাঁপিয়ে যান ও প্রথম টেস্ট শতকের সন্ধান পান। তবে, দুইদিন মন্দ আবহাওয়ার কবলে পড়লে দল জয়লাভ করতে পারেননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংসে পরিণত হয়। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ফিরতি সফরে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৬ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
ছন্দবিহীন ক্রীড়াশৈলীর কারণে ১৯৭৬ সালে মাদ্রাজে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়েন ও ১৯৮২ সালে পুণরায় নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৪ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খুব কমই সফলতার সন্ধান পান। ফলশ্রুতিতে, আবারও বাদ পড়েন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আসরে তৃতীয় আসরে দলে তাঁকে রাখা হয়নি। এভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেদ টানতে হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তারকা ব্যাটসম্যান ও দলনেতা ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ওয়েলিংটন দলের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে বেশ কয়েকটি শিরোপা এনে দেন। পরবর্তীতে কোচ ও দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকার, নৈশভোজন পরবর্তী বক্তা ও দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটের তিনটি খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, সুবক্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। পরবর্তীতে, ওয়েলিংটন সিটি কাউন্সিলর হন। ওয়েলিংটনভিত্তিক বেসিন রিজার্ভ ও ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামের পরিচালনা পরিষদে যুক্ত রয়েছেন। ২০০৯ সালে ক্রিকেট ও সম্প্রদায়ে অসামান্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ রাণীর সম্মাননা হিসেবে এমএনজেডএম পদবী লাভ করেন।
