|

জন হ্যাস্টিংস

৪ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘দ্য ডিউক’ ডাকনামে ভূষিত জন হ্যাস্টিংস ১.৯৫ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। শৈশবকালে রাগবিতে আকৃষ্ট ছিলেন। পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, কোচি তুস্কার্স কেরালা, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মেলবোর্ন স্টার্স ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার একদিনের দলে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ২০ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতীয় একাদশ বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। আঘাত নিয়ে খেলেও তিন খেলা থেকে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। শেফিল্ড শীল্ডে ৩৬ উইকেটসহ ব্যাট হাতে ৪৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১০ সালে ব্র্যাডম্যান বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ২৯টি ওডিআই ও ৯টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৩১ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় হাশিম আমলা’র অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দল খুব সহজেই জয়লাভ করে। প্রথম ইনিংসে এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট পান ও ২০ ওভারে ১/৫১ লাভ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় পরিবর্তনে বোলিং করেন। ১৯ ওভারে ১০২ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, ব্যাট হাতে বেশ সফল ছিলেন। ৩২ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০৯ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৭ ঊর্ধ্ব গড়ে ২৩৯ উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, ২২ ঊর্ধ্ব গড়ে ২২০০-এর অধিক রান সংগ্রহ করেছেন।

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে চিকিৎসকের পরামর্শমাফিক অজ্ঞাত কারণে ফুসফুসের ক্ষত ধরা পড়ার প্রেক্ষিতে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পুণরায় বোলিং করার ফলে রক্তক্ষরণে নিশ্চয়তা দেবার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশের ফলে এ সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ব্রায়ানান হ্যাস্টিংস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • | |

    মুশতাক আহমেদ

    ২৮ জুন, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের শাহিওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বুদবুদপূর্ণ, গোলকার গড়নের লেগ-স্পিনার। গুগলিতে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। আব্দুল কাদিরকে স্বীয় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেন। বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই তাঁর…

  • |

    ইয়াসির আলী, ১৯৯৬

    ৩ জুন, ১৯৯৬ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রাব্বি’ ডাকনামে পরিচিত। এছাড়াও, ‘ইয়াসির আলী রাব্বি’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৪ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন।…

  • |

    এস বদ্রিনাথ

    ৩০ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস,…

  • |

    অনিল দলপত

    ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দল থেকে ওয়াসিম বারি’র অবসর গ্রহণের পর বেশ কয়েকজন উইকেট-রক্ষকের দাবীদারের অন্যতম ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | | |

    ওয়াসিম বারি

    ২৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিংয়েও পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানে মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক না থাকলেও সেরাদের কাতারে অবস্থানে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন স্ব-মহিমায়। রডনি মার্শ কিংবা জেফ ডুজনের ন্যায় দর্শনীয় না হলেও…

  • |

    রেজিনাল্ড হ্যান্ডস

    ২৬ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রন্ডেবশভিত্তিক ডিওসেসান কলেজে অধ্যয়ন করেন। রোডস স্কলার ছিলেন। অক্সফোর্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশুনো করেছিলেন। অক্সফোর্ডে অবস্থানকালে ভ্রাতাদের ন্যায় তিনিও রাগবিতে ব্লুধারী হন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে সাউথ বনাম রেস্টের…