২৯ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে নেলসনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দ্রুত পদসঞ্চালনায় মজবুত প্রতিরক্ষাব্যূহ সহকারে ও অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও, বলকে সজোরে আঘাত করাসহ উঁচুতে বলকে প্রেরণ করার অধিকারী ছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ১৯ বছর বয়সে ৫৭ ও ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, অ্যালেক্স মইরের চার ওভার থেকে ৩৬ রান আদায় করেছিলেন।
১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত সময়কালে সব মিলিয়ে ১২ টেস্টে অংশ নিয়ে একটি শতরানের ইনিংসসহ ৪৪০ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত ও পাকিস্তান সফরে যান। এ সফরে ৩৪.৭৭ গড়ে ৩১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
৭ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১১ ও ৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৫৫ সালে হায়দ্রাবাদে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সাত ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে ষষ্ঠ উইকেটে এআর ম্যাকগিবনের সাথে ৮৭ রানের নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সিডি ম্যাকমিলান (৭৪*) ও সিএল কেয়ার্নস (৬১) ১৩৭ রানের জুটি গড়লে তাঁদের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে।
১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬১-৬২ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরে ঐ টেস্টগুলোয় ব্যর্থতার প্রতিচিত্র ছিলেন। ঐ সফরে সব মিলিয়ে ৫৩৩ রান করেছিলেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। এরপর, নিউবারি ক্রিকেট ব্যাট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
