|

জন ডার্সি

২৩ এপ্রিল, ১৯৩৬ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে দূর্বলতর নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত প্রকৃতির গুণাবলী ছাড়াই অসম্ভব ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিয়ে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। সীমিত পর্যায়ের স্ট্রোক প্লের অধিকারী ও অপ্রচলিত পন্থা অবলম্বনে বল মুঠোয় রেখে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এরফলে, ব্যাটসম্যানদের স্বাভাবিকভাবে তাঁর বল মোকাবেলা করতে হতো। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি, ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনার্থে টেস্ট দলে ঠাঁই পান। এ সময়ে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ৩০ গড়ে ৮১০ রান তুলেছিলেন। সবগুলো টেস্টই স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ট্রেভর মিল ও বিল প্লেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯ ও ২৫ রান তুলে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। সফরকারীরা ২০৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর পূর্বে পিতার মৃত্যু সংবাদ শুনেন। তাসত্ত্বেও লর্ডস টেস্টে অংশ নেন। ৩৩ ও ১৪ রান তুলেন। ঐ সফরের পরবর্তী তিন টেস্টের ছয় ইনিংস থেকে আর মাত্র ৪৫ রান যুক্ত করতে পেরেছিলেন।

একই সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ সিরিজে ১৩৬ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন। পুরো গ্রীষ্মে ১৬.৩১ গড়ে ৫২২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। এ সফরের পর দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা যায়নি।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তবে, চূড়ান্ত দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ২৫ বছর বয়সেই তাঁকে ক্যান্টারবারি দল থেকেও উপেক্ষিত হতে হয়। ওতাগোতে চলে যান। সেখানে আরও দুই মৌসুম সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন।

ব্রিটিশ ক্রিকেট সাংবাদিক ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স তাঁর বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, ‘প্রায়শঃই তিনি রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলতেন। স্ট্রোক খেলতে চাইতেন না। অপ্রচলিত পন্থায় ব্যাট ধরার ফলে তাঁর কার্যকারিতা বহুলাংশে কমে যায়।’

Similar Posts

  • |

    মার্ক বার্মেস্টার

    ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে নাটাল প্রদেশের ডারবান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সহজাত প্রকৃতির খেলোয়াড়ের চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। সিম বোলার ছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবেই নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। নিজের সেরা…

  • |

    ফ্রাঙ্ক অ্যালান

    ২ ডিসেম্বর, ১৮৪৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অ্যালান্সফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ক্যাঙ্গারু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৮৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৮৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে মেলবোর্নে নিউ…

  • | | |

    অনিল কুম্বলে

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৭০ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। টেস্ট ও ওডিআইয়ে দলের সর্বাপেক্ষা কার্যকরী বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন। দলীয় সঙ্গীদের আসা-যাবার পালায় থাকলেও প্রতিটি খেলাতেই অংশ নিয়েছেন। ভারতকে একাকী…

  • | |

    মাখায়া এনটিনি

    ৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের এমডিঙ্গি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জর্জ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে তাঁর বোলিংয়ের সক্ষমতা ও অনবদ্য ভঙ্গীমায় নিজের পরিচিতি ঘটান। ১৫ বছর বয়সে…

  • |

    ম্যাথু হার্ট

    ১৬ মে, ১৯৭২ তারিখে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সময়কালে…

  • | |

    মিক কোমেইল

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…