৮ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে অংশগ্রহণকারী ড. জে.জে. ক্যামেরনের সন্তান ছিলেন। টানটন স্কুলে ছাত্র থাকাকালে বেশ খ্যাতি পান। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে কেমব্রিজ থেকে ব্লু লাভ করেন। ১৯৩৫ সালে লর্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অক্সফোর্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৭৩ পান। ঐ খেলায় কেমব্রিজ দল খুব সহজেই জয় পেয়েছিল।
১৯৩২ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩১ সালে লর্ডসে বাদ-বাকী দলের সদস্যরূপে পাবলিক স্কুলসের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ১৯.১ ওভারে ১০.৪৯ লাভ করেছিলেন। পরের মৌসুমে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দলটির পক্ষে ৪৭ খেলায় অংশ নেন। ১৯৩৭ সালে ইস্টবোর্নের সমারসেটের সদস্যরূপে সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৩ রান তুলেছিলেন। এর পাঁচ দিন পর কেন্টের বিপক্ষে আরও একটি শতক হাঁকান।
১৯৩৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ও দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ঐ বছর রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বার্টি ক্লার্ক, জেফ্রি স্টলমেয়ার ও ব্যাম ব্যাম উইকসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব দ্বিতীয় বলেই হ্যারল্ড গিম্বলেটকে বিদেয় করে উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৪৬ সালে জ্যামাইকার পক্ষে খেলেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতাকে আর ধরে রাখতে পারেননি। লেগের দিক থেকে স্পিন আনার ক্ষমতা হারান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০.৭৭ গড়ে ১৮৪টি উইকেট পান। দলের অমূল্য ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হতেন। ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন না করা সত্ত্বেও ১৮.৭৩ গড়ে ২৭৭২ রান তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে চারটি শতক হাঁকিয়েছিলেন।
একবার লন্ডনে তাঁকে উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় দেখা যায়। অবশ্য এ অবস্থার উত্তরণ ঘটান। মিলফিল্ড স্কুলে কাজ করতেন। এরপর, চিগওয়েল স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে সাসেক্সের চিচেস্টার এলাকায় ৮৫ বছর ৩১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর অপর ভ্রাতা এফ.জে. ক্যামেরন ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন।
