৭ আগস্ট, ১৮৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের হোপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘কোজি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। শারীরিক ভারসাম্য বজায় রেখে সমীহ জাগানো বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৯০২-০৩ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।
১৯০২ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০১, ১৯০৪ ও ১৯০৭ – এ তিনবার ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। প্রথম দুই সফরে বেশ ভালোমানের সফলতা পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে তাঁকে গতির দিক দিয়ে সেরা বিবেচনায় আনা হয়েছিল। ১৯০১ সালে বেশ টগবগে যুবক অবস্থায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। এ সফরে একবার লর্ডসে এমসিসি’র পক্ষে খেলা কেএস রণজিৎসিংজী’র মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২২ ও ৩ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকে বার্ট্রাম কুলি’র ক্যাচে পরিণত করে বিদেয় করেন।
১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বিডি অ্যান্ডারসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৬৪ ও ১/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উভয় ইনিংসে জ্যাক সন্ডার্সের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। ১৫৯ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এ সিরিজে দুই টেস্ট খেলেন। ট্রাম্পার, হিল, গ্রিগরি ও ডাফের উইকেট পেয়েছিলেন।
১৯০৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে ১০৪ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯০৭ সালে লর্ডস টেস্টে সিবি ফ্রাইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। জেসপের ব্যাটে ব্যাপকভাবে তুনোধুনো হন। এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশ নেয়। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তেমন সাফল্য পাননি।
১৯০৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে টেড আর্নল্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজেকে বেশ মেলে ধরেছিলেন। ১৮-এর কম গড়ে ৩৪৮ উইকেটের সন্ধান পান। কেবলমাত্র ইংল্যান্ড সফরেই ১৯৩টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছিলেন।
৭ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে কেপ প্রভিন্সের রন্ডেবশ এলাকায় ৫১ বছর ৩৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ডেভিড ফ্রিদ তাঁকে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়; টম রিচার্ডসনের ন্যায় অসম্ভব দম নিয়ে ক্রমাগত বোলিং করতে পারতেন ও কখনো পেসের সাথে আপোষ করেননি। প্রায়শঃই স্লিপ অঞ্চলে তাঁর বল থেকে ক্যাচ ফস্কে যাবার ফলে সাফল্য লাভ করা থেকে বঞ্চিত হতেন।
