৩১ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিন বছর সমারসেটের পক্ষে খেলে ২৮ শতক সহযোগে সাড়ে সাত হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৯০ সালে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৩১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, ২০০৯ সালে তাঁর সন্তান স্টিফেন কুক ৩৯০ রান হাঁকালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ঘটনা হিসেবে পিতা-পুত্রের সাফল্যরূপে চিত্রিত হয়।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার পুণরায় প্রত্যাবর্তনে প্রথম বল মোকাবেলা করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, নিজ দেশে অনুষ্ঠিত টেস্টেও এ গৌরবের অধিকারী হন। তবে, নিজেকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।
১০ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলকাতায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এরপর, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩৯ বছর বয়সে ১৩ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রায়ান ম্যাকমিলান, ব্রেন্ট শ্যুলজ, জন্টি রোডস ও ওমর হেনরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম বলেই শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। কপিল দেবের বলে থার্ড স্লিপে দণ্ডায়মান শচীন তেন্ডুলকরের কটে পরিণত হলে গোল্ডেন ডাক পান। পরবর্তীতে অবশ্য ২০০০-০১ মৌসুমে লিওন গারিক ও ২০২০-২১ মৌসুমে আব্দুল মালিক এ অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রবীণ আম্রে’র অসাধারণ শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। গ্ল্যামারগনের স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে ব্যাটিং কোচ হিসেবে যুক্ত হন। ইংরেজ ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান ১৯৮০-এর দশকের সর্বকালের সেরা দক্ষিণ আফ্রিকান একাদশে তাঁকে ঠাই দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। তাঁর সন্তান স্টিফেন কুক দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।
