২১ জুন, ১৯২২ তারিখে কো ডারহামের বার্নপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৫০ থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৮ বছর বয়সে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ওয়েলস কাউন্টির দলটিতে নিয়মিতভাবে অফ-স্পিনার হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপূর্বে অ্যাশটন ভিলা ও ওয়েলসের বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষে ফুটবল খেলার সাথে যুক্ত ছিলেন।
নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুমে ১৩৬ উইকেট দখল করেন। ১৯৫১ সালে সোয়ানসীতে স্প্রিংবকের বিপক্ষে হ্যাট্রিকসহ ৬/২৭ পান ও গ্ল্যামারগনকে জয় এনে দেন। বেশ লাফিয়ে ও দীর্ঘকায় আঙ্গুলের সদ্ব্যবহারে নিজেকে সেরা স্পিনারে রূপান্তর করেছিলেন। ১৯৩৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৩৬ লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে ১০৫ উইকেট লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৯৫৪ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। একই সফরের ২২ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জিম পার্কসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান ও তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১২ আগস্ট, ১৯৫৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ছয় ওভার থেকে ৩/১২ পান ও চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ২৪ রানে জয় পেলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এরফলে, ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজের জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কয়েকবার আঘাতের কবলে পড়েন। আঙ্গুলে আঘাত পেলে সফরের শুরুরদিকে তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। এরপর আর তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি।
টেস্ট অভিষেকের তিন বছর পূর্বে সোয়ানসীতে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে গ্ল্যামারগনের নাটকীয় বিজয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও বেশ কার্যকরী স্পিনার ছিলেন। ১৯৫৯ সালে ১৮ গড়ে ১১৩ উইকেট দখল করেন। এ পর্যায়ে ডন শেফার্ডের সাথে দূরন্ত জুটি গড়েছিলেন। পাশাপাশি, নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হতেন। ১৯৫৮ সালে আর্মস পার্কে মিডলসেক্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় পাঁচ রানের জন্যে শতক হাঁকাতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৯.৮৮ গড়ে ৮১৯ উইকেট, ১৫২ ক্যাচ ও ৪৬৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৬১ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, ঐ গ্রীষ্মে আবারও কয়েকবার আঘাতের কবলে পড়েন। ঐ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
২৬ জানুয়ারি, ২০০৩ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের আলট্রিঞ্চাম এলাকায় নিজ গৃহে ৮০ বছর ২১৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
