|

জিহান মুবারক

১০ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

খাঁটিমানসম্পন্ন দর্শনীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান। কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে খেলছেন। তাঁর পিতা ড. এ.এম. মুবারক বিজ্ঞানী ছিলেন। শ্রীলঙ্কায় ফিরে কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিন বছর কলেজের প্রথম একাদশে খেলেন। এছাড়াও, সাঁতারে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। এছাড়াও, ২০০২ সালে কিশোরদের ওয়াটার পোলোয় শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে খেলেছেন। তবে, ক্রিকেটের প্রতিই তিনি আকৃষ্ট ছিলেন ও পরবর্তীতে পেশাদার ক্রিকেটারে পরিণত হন।

অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শুরুতে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ শিবিরে অরবিন্দ ডি সিলভাঅর্জুনা রানাতুঙ্গা তাঁকে চিহ্নিত করেন। কভার ড্রাইভ মারতে দক্ষ ও স্পিনের বিপক্ষে তিনি সিদ্ধহস্তের অধিকারী। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব, ওয়েয়াম্বা ও সাউদার্ন এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দূরন্ত রাজশাহী, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত রান সংগ্রহের কারণে তাঁকে জাতীয় দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০০২ থেকে ২০১৫ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট, ৪০টি ওডিআই ও ১৬টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০২ সালে নিজ দেশে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জুলাই, ২০০২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নাভিদ নওয়াজ ও চামিলা গামাগে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাইকেল ভ্যানডর্টের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। খেলায় ২৪ ও ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, মাইকেল ভ্যানডর্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৮ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৫ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শন পোলকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়লাভ করে।

একই সফরের ২৭ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। দলের পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন ও ধ্রুপদীশৈলীর ৪৮ রান তুলেন। তবে, ওডিআইয়ে দূর্বল ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন। এ পর্যায়ে ৭ খেলা থেকে মাত্র ৬৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। মারভান আতাপাত্তু ও রাসেল আর্নল্ডের অবসর গ্রহণের কারণে ২০০৭ সালে টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায় নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। তবে, দলে স্থায়ীভাবে খেলতে ব্যর্থ হন ও আসা-যাবার পালায় থাকেন।

৯ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এরপর, ১০ জুন, ২০১৫ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০১৫ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেএল রাহুলের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ২৭৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর অফ-স্পিন বোলিং করতেন। চমৎকার ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি টি২০ ক্রিকেটের কার্যকরী ব্যাটসম্যান ছিলেন।

Similar Posts

  • |

    লাহিরু গামাগে

    ৫ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে মারাদানা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘নয়া’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। নতুন বল নিয়ে পেস ও সুইং সহযোগে বেশ চমৎকার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার অনুপযোগী পিচেও বলকে সুইং করানোয় সক্ষমতা…

  • |

    প্যাট ট্রিমবর্ন

    ১৮ মে, ১৯৪০ তারিখে নাটালের গ্লেনউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০…

  • |

    বাপু নদকর্ণী

    ৪ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আন্ডারওয়্যারের পরিবর্তে কটিবস্ত্র পরিধান করতেন। ফলশ্রুতিতে, মহাত্মা গান্ধী’র ব্যবহৃত বস্ত্রের অনুসরণে ‘বাপু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভারত দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন।…

  • |

    ফ্রান্সিস ওয়াল্টার্স

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইস্ট মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। ড্রাইভ ও কাটের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে খেলতেন। ১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে…

  • |

    সিড বার্নস

    ৫ জুন, ১৯১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যানানডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। চমৎকার ক্রিকেটার ও অদ্ভূত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয় দলের’ সদস্য ছিলেন। সচরাচর ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে খেলতেন। অগণিত দূর্ভাগা খেলোয়াড়ের অন্যতম…

  • | | |

    গুলাম আহমেদ

    ২৮ জুলাই, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের প্রথম সেরা অফ-স্পিনার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। বেশ দেরীতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সংযুক্তি ঘটে। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে…