| |

জয়সিংহরাও ঘোরপদে

২ অক্টোবর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পাঁচগণি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪৮-৪৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দক্ষ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এক দশক বরোদা দলের অন্যতম পরিচালনা শক্তিতে নিজেকে পরিচিতি করেছিলেন। তবে, ‘মামা’ হিসেবে পরিচিত জয়সিংহরাও গৌরপদে টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি তারকা খেলোয়াড় ছিলেন না। ২৬ গড়ে ২৬৩১ রান ও ৩১ গড়ে ১১৪ উইকেট দখল করেছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিংয়ে প্রায়শঃই বিদেয় নিতেন। মাত্র দুইটি শতকের সন্ধান পেয়েছিলেন। অপরদিকে, তাঁর লেগ-ব্রেক কিছুটা সমীহের ছিল। সর্বোপরী তিনি তিনজন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটারের কাকা ছিলেন। তাঁদেরই একজন বরোদার মহারাজা হয়েছিলেন। বরোদার রাজ পরিবারের সাথে সম্পর্ক সত্ত্বেও তিনি সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন। কাকাতো ভাই ফতেহসিংরাও, রঞ্জিতসিংরাও ও সংগ্রামসিংরাও প্রত্যেকেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ছিলেন।

মাঠ ও মাঠের বাইরে ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বরোদার ক্রিকেট জগতে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও লিকলিকে গড়নে সর্বদাই চশমা পরিধান করতেন। চিরপরিচিত গোঁফ নিয়ে খেলার তুলনায় শিক্ষা জগতের দিকেই অধিক দৃশ্যমান্যতা প্রদর্শন করতেন। ক্রিকেট মাঠের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষেই তাঁকে দেখতে অধিক মানানসই ছিল।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণে সুযোগ পেয়েছিলেন। বেশ কয়েকজন উপযুক্ত খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তিনি ৮ টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন তা অজানাই রয়ে গেছে। ১৫ গড়ে রান পেয়েছেন। কোন অর্ধ-শতকের সন্ধান পাননি ও ২৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থাভাজন ছিলেন। শক্ত ও পুরো কাঁচের চশমা পরিধান সত্ত্বেও দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। তাসত্ত্বেও আটবার টেস্টে অংশ নেয়ার উপযুক্ত ছিলেন না।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শেষ উইকেট জুটিতে সুভাষ গুপ্তে’র সাথে ৫০ রান যুক্ত করেছিলেন। তবে, মাধব আপ্তে’র ১৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে স্বাগতিক দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫৯ সালে দত্তা গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। লর্ডসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ৪১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে নরি কন্ট্রাক্টরের সাথে ৮৩ রানের জুটি গড়েন।

২০ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২৭ রানে জয় তুলে নিয়ে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে বরোদার রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে একবার সেরা খেলা প্রদর্শন করেছিলেন। ৮৪ গড়ে ৩৩৫ রান ও ২৩ গড়ে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে বরোদার সদস্যরূপে খেলে ৫৭ রান করেছিলেন। ক্রিকেট খেলাকে বিদেয় জানানোর পর বরোদা হাউজহোল্ডের কম্পট্রোলার হয়েছিলেন। ২৯ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে গুজরাতের বরোদায় মাত্র ৪৭ বছর ১৭৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেহাবসানের পূর্ব-পর্যন্ত জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। বরোদা ক্রিকেট সংস্থা তাঁর সম্মানার্থে অনূর্ধ্ব-১৯ তিনদিনের প্রতিযোগিতার নামকরণ করে।

Similar Posts

  • | | |

    প্রণব রায়

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভাগ্যকূলের অভিজাত ধনী জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। সচরাচর পঙ্কজ রায়ের সন্তান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেককালীন পিতা ইতোমধ্যে বাংলা…

  • | | |

    মাহেলা জয়াবর্ধনে

    ২৭ মে, ১৯৭৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষতঃ দলের অধিনায়কত্ব পালন করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। পাশাপাশি,…

  • | |

    ডগলাস জার্ডিন

    ২৩ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মালাবার হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ও নিজের সময়কালে শীর্ষস্থানীয় শৌখিন ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বিতর্কের মূল হোতা হিসেবে ক্রিকেটের খলনায়ক হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। শারীরিক…

  • | |

    জোনাথন ক্যাম্পবেল

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পিতা এডিআর ক্যাম্পবেল জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট ও কাকা ডিজেআর ক্যাম্পবেল প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    তাইজুল ইসলাম

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনেক বামহাতি স্পিনারের ভীড়ে অন্যতম সেরা ছিলেন। বলকে বড় ধরনের বাঁক খাওয়াতে না পারলেও নিখুঁততা বজায় রাখতেন। এরই মাঝে বেশ…

  • | |

    ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল…