|

জয়ন্ত যাদব

২২ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯০ সালে স্বীয় মাতা লক্ষ্মী বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হন। শুরুতে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। তবে, খুব দ্রুত তিনি তাঁর বোলিং পরিবর্তনে অগ্রসর হন। এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘শুরুতে আমি লেগ-স্পিনার হিসেবে আবির্ভূত হই।’ তবে, অপর দুই কাকাতো ভাই লেগ-স্পিন বোলিং করায় তারা এতে বাঁধ সাধে। তাদের অভিমত, ‘একই পরিবারে তিনজন লেগ-স্পিনার থাকতে পারে না। এর পরই আমি অফ-স্পিন বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ি।’

২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০১১ সালে গুজরাতের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ছয় উইকেট নিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এক বছর পর ২০১২ সালে অমিত মিশ্রের সাথে অষ্টম উইকেট জুটিতে ৩৯২ রান তুলে রেকর্ড ভঙ্গ করে সকলের দৃষ্টি কাড়েন। ২১১ রান তুলেন তিনি। এটিই তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম শতরান ছিল।

২০১৪-১৫ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় ৩৩ উইকেট দখল করে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় চলে আসেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে পড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নিয়ে ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলতে তাঁকে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্যের জের ধরে আইপিএলে দিল্লি ডেয়াডেভিলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৫ সালে মাত্র তিন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান ও ওভারপ্রতি ৪.১৪ রান খরচ করেছিলেন। এরপর, দ্বাদশ আসরকে ঘিরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে চলে যান। ২০১৯ সালে একই দলের পক্ষে মাত্র দুই খেলায় অংশ নিয়েছেন।

২০১৬ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে ভারত দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। হরিয়াণার সাবেক দলীয় সঙ্গী বীরেন্দ্র শেহবাগের কাছ থেকে ওডিআই ক্যাপ লাভ করেন। অভিষেক ঘটা ঐ খেলায় ৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান। ওভার প্রতি ২.০০ রান খরচ করে একটি উইকেট পেয়েছিলেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে বিশাখাপত্তনমে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ভারতের ২৮৬তম টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর নাম যুক্ত হয়। মঈন আলী তাঁর প্রথম শিকারে পরিণত হন। ১/৩৮ ও ৩/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৩৫ ও ২৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ২৪৬ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

প্রথম তিন টেস্ট শেষে ৭৩.৬৭ গড়ে ২২১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে একটি শতরান ও একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে শতক হাঁকানোকালীন বিরাট কোহলি’র সাথে ২৪১ রানের জুটি গড়েন। এ জুটির সংগ্রহটি বৈশ্বিকভাবে অষ্টম উইকেট জুটিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক ছিল। এছাড়াও, প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে শতরানের ইনিংস খেলেন। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ সাফল্য পান। 

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ডব্লিউইআর সমারভিলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৩০। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৩ ও ৪/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১২ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে এজাজ প্যাটেলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। মৈয়াঙ্ক আগরওয়ালের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩৭২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। 

একই মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে মোহালীতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৫ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান এবং একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিক দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

Similar Posts

  • |

    এনজাবুলো এনকুবে

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়ন হলেও বৃহৎ হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। কার্যকর অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মাখায়া এনটিনিকে ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। আগ্রাসী ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ…

  • |

    ভার্নন রয়েল

    ২৯ জানুয়ারি, ১৮৫৪ তারিখে চেশায়ারের ব্রুকল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৩ থেকে ১৮৯১…

  • |

    ডোনাল্ড তিরিপানো

    ১৭ মার্চ, ১৯৮৮ তারিখে জিম্বাবুয়ের চতুর্থ বৃহত্তম শহর মুতারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে খেলা শিখতে অগ্রসর হয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, এক পর্যায়ে মাউন্টেনিয়ার্স দলে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে।…

  • |

    দান্তে পার্কিন

    ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী উপহার দিতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স, গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৯-৯০…

  • | |

    মাহমুদুল্লাহ

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। বাংলাদেশ দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজ শহর ময়মনসিংহে ক্রিকেট খেলা শিখেন। সনথ জয়সুরিয়া, কেভিন পিটারসন, শোয়েব মালিক, স্টিভ স্মিথ প্রমূখের ন্যায় খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেছিলেন…

  • | |

    রবিন সিং, ১৯৬৩

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ত্রিনিদাদের প্রিন্সেস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অল-রাউন্ডার হিসেবে ভারত দলে খেলেছেন। ১৯৯০-এর দশকে ওডিআইয়ে একাধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। সচরাচর মাঝারিসারিতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন…