| |

জয়ানন্দ বর্ণবীরা

২৩ নভেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মাতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে গল ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজ দেশে তিনি অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। অধিকাংশ টেস্টই তিনি শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলেছেন। ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজে স্বীয় প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটার সুযোগ এনে দেয়।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাঝে-মধ্যে বোলিং করার সুযোগ পান। মাত্র ৮.৩ ওভার বোলিং করে ১/২৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, তৌসিফ আহমেদের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, নভেম্বর, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পরবর্তী টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন। ভারতের বিপক্ষে অংশ নিয়ে ৪৬ ওভারে ৩/৯০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য হন। ওয়েলিংটন টেস্টে উইকেটবিহীন অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। এটিই এ সিরিজে তাঁর একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পুণরায় খেলার সুযোগ পান। এসএসসিতে ২/৪৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরফলে, নিউজিল্যান্ড দলকে গুটিয়ে দিতে সহায়তা করেন। টেস্টে তাঁর দল জয় পায়; পাশাপাশি ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

একই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার বিজয়ে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। সব মিলিয়ে ঐ খেলায় ৬৫.১ ওভার বোলিং করে ১৮৮ রান খরচায় আট উইকেট পেয়েছিলেন। ভারতের বিপক্ষে তুলনামূলকভাবে কম সফল ছিলেন। ৩ টেস্টে অংশ নিয়ে ৬ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৯৪ সালে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৯ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৩/৬৩ ও ২/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সাঈদ আনোয়ারের সুন্দর ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৩০১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে সীমিত পর্যায়ের অংশগ্রহণ থাকলেও বেশ কার্যকর বোলার ছিলেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। দ্রুতগতিতে পেস সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তবে, বোলিং ভঙ্গীমায় বৈধতার প্রশ্নের মুখোমুখি হন। এক পর্যায়ে তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদেয় নিতে হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চলে আসার পর গল স্টেডিয়ামে খেলা প্রস্তুতের সাথে জড়িত ছিলেন। ঐ মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথমবারের মতো খেলা আয়োজনে স্বাগতিক দল জয় পেলে সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে এসএলসি’র অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে দুই বছরের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ২০ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে আইসিসি থেকে নিষিদ্ধঘোষিত হন।

১৬ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে গলেতে ৬৪ বছর ৩২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    আতা-উর-রেহমান

    ২৮ মার্চ, ১৯৭৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের নতুন প্রজন্মের পেস বোলিং আক্রমণে আতা-উর-রেহমানের উদ্ভব ঘটে। ওয়াসিম-ওয়াকার জুটিকে আরো শক্তিশালী ও সহায়তাকরণে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ১৯৯০-৯১…

  • | |

    সঞ্জীব শর্মা

    ২৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, রেলওয়ে ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০-এর…

  • |

    এস বদ্রিনাথ

    ৩০ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস,…

  • |

    আর্টি ডিক

    ১০ অক্টোবর, ১৯৩৬ তারিখে ওতাগোর মিডলমার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন।…

  • |

    সিরিল ক্রিস্টিয়ানি

    ২৮ অক্টোবর, ১৯১৩ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। গায়ানা তথা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম…

  • |

    নাভিদ জাদরান

    ৭ মার্চ, ২০০৫ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে হিন্দুকুশ স্ট্রাইকার্স ও মিস আইনাক রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন।…