|

জাভেদ আহমদী

২ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে কুন্দুজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পেশাওয়ারের উদ্বাস্তু শিবিরে তাঁর জন্ম। পেশাদার ক্রিকেটার হবার মানসে ২০০৬ সালে কিশোর অবস্থায় আফগানিস্তানে চলে আসেন। লন্ডন থেকে ভ্রাতার পরামর্শক্রমে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন ও সেখান থেকেই তাঁর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি মাইকেল ভনের অনুরূপ খেলে থাকেন। অবশ্য দলীয় সঙ্গীরা প্রায়শঃই বলকে শূন্যে ভাসিয়ে খেলতে পারঙ্গমতা দেখালেও তিনি এর ব্যতিক্রম। তবে, সীমিত-ওভারের খেলায় দ্রুত রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান। আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। মাইকেল ভনের ন্যায় তিনিও জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। হয়তোবা ভবিষ্যতে নেতৃত্বের ভার কাঁধে চলে আসতে পারে। তবে, এ ধরনের মিল এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। কার্যকর অফ-স্পিন বোলিং করেন।

২০১০ সালে ১৮ বছর বয়সে উঁচু স্তরের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ঐ বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটিই আফগানিস্তানের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। ছয় খেলা থেকে একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১২২ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯০ রান তুলেন। বল হাতে নিয়ে তেমন সফলতা পাননি। ৮ ওভারে ৩৪ রান খরচ করেন। ২০১০ ও ২০১২ সালে যুবকদের দুইটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, ২০১২ সালের বিশ্বকাপে দলকে প্লেট ফাইনালে নেতৃত্ব দেন ও ঐ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এনামুল হক ও পাকিস্তানের বাবর আজমের পর তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এ সময়ে অষ্টাদশ জন্মদিন উদযাপনের কিংবা কোনরূপ লিস্ট-এ খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বেই বড়দের দলের সদস্যরূপে ওডিআই অভিষেক ঘটে।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৪ রান তুলেন ও ঐ প্রতিযোগিতায় পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহে পরিণত হয়। এছাড়াও, ২৪ আগস্ট তারিখে ব্রিসবেনে ঐ প্রতিযোগিতার প্লেট ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দেন। পরদিনই শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে বড়দের দলে যুক্ত হবার লক্ষ্যে ১৫-ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ করেন। উভয় দলের কাছেই তাঁর এ অংশগ্রহণ বেশ গুরুত্বতার দাবী রেখেছিল।

২০১০ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৯ জুলাই, ২০১০ তারিখে রটারডামে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ প্রথম বিভাগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে ওডিআই অভিষেক পর্ব সম্পন্ন করেন। তিন নম্বর অবস্থানে নেমে ৩ রান তুলে বিদেয় নেন। বোলিং করার সুযোগ পাননি ও প্রতিপক্ষীয় স্কটল্যান্ড দল ৩৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে জয় পায়। এরপর, ঐ বছরের শেষদিকে অর্থাৎ, ২০০৯-১০ মৌসুমের আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কেনিয়ার বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এছাড়াও, শেখ জামাল ধানমন্ডী ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

১৪ মার্চ, ২০১২ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাঁর টি২০আই অভিষেক হয়। তবে, খেলায় তিনি ব্যাটিং কিংবা বোলিং – কোন বিভাগেই অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ১৫০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় আফগনিস্তান দল ২ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জয়লাভ করে। দুবাই ত্রি-দেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। ৮১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৪/৩৭ পান। ঐ খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ১ ও ৩ রান তুলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ২৬২ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়।

২০১৭ সাল থেকে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওনাল ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে অ্যামো রিজিওনের পক্ষে খেলছেন। তন্মধ্যে, ২০১৮ সালের আসরে দলের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ৫ খেলা থেকে ২৬৭ রান তুলেছিলেন। ২০১৮ সালের আফগান প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধনী আসরে কাবুল জানানের সদস্য ছিলেন। ৮ ইনিংস থেকে ২১.৮৫ গড়ে ১৫৩ রান ও পাঁচ ইনিংস থেকে ২ উইকেট পান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। পাঁচ সন্তানের জনক। তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী কান্দাজ প্রদেশের বসবাস করেন। প্রচণ্ড বোমাবর্ষণে গৃহ ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। সেখানকার ওয়েস্ট ক্লাবে যুক্ত হন। ক্লাবের সভাপতি মাইকেল সোয়ান স্মিথফিল্ডে কাঠের প্রতিষ্ঠানে তাঁকে চাকুরী দেন।

Similar Posts

  • |

    রিচার্ড স্নেল

    ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং এবং ইংরেজ কাউন্টি…

  • |

    জন ট্রাইকোস

    ১৭ মে, ১৯৪৭ তারিখে মিশরের জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিখুঁত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। পিতা-মাতা গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন ও ১৯৪৮ সালে…

  • |

    চাক ফ্লিটউড-স্মিথ

    ৩০ মার্চ, ১৯০৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার স্টাওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তৎকালীন ভারতের সংবাদপত্র ব্যবস্থাপক ফ্লিটউড স্মিথ ও ফ্রান্সেস অ্যালাইস দম্পতির তৃতীয় সন্তান ছিলেন। স্টাওয়েল প্রাইমারি স্কুলে পড়াশুনো করেন। এরপর, ৬ ফুট ১…

  • |

    হাওয়ার্ড ফ্রান্সিস

    ২৬ মে, ১৮৬৮ তারিখে ইংল্যান্ডের ওয়েস্টবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯০ থেকে ১৯০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    জাস্টিন অনটং

    ৪ জানুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পার্ল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পরবর্তীতে অফ-স্পিন বোলিং রপ্ত করেন। এরফলে, নিজেকে আরও কার্যকর ক্রিকেটারে পরিণত করেন। ‘রোডি’ ডাকনামে…

  • |

    কামরান আকমল

    ১৩ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পর ক্রিকেট জগতে সর্বাধিক গুরুত্বতা তুলে ধরেছেন। ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে দিন, ইনিংস, ধাঁপ পরিবর্তনে ব্যাট হাতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। তাঁর ব্যাটিং…