১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ক্রেজি’ ডাকনামে ভূষিত জেসন ক্রেজা ১.৮৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও তাসমানিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৯ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে পরবর্তী মৌসুমকে ঘিরে তাসমানিয়া কর্তৃপক্ষ নতুন করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বোলিং উদ্বোধনে নেমে ৪৩.৫ ওভারে ব্যক্তিগত সেরা ৮/২১৫ লাভ করেন। এ পর্যায়ে ওভার প্রতি প্রায় পাঁচ রান খরচ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/১৪৩ পেয়েছিলেন। এটি বিস্ময়কর সাফল্য ছিল। ঐ টেস্টে ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। বব ম্যাসি’র পর ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর ন্যায় এতো অধিক রান আর কেউ খরচ করেনি। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র পাঁচ-উইকেট ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দশ উইকেট লাভ করা ছিল। তাসত্ত্বেও ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে তিনি ৫ ও ৪ রান তুলেছিলেন। তাঁর অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
ওভারপ্রতি অতিরিক্ত রান খরচ করলেও পরবর্তী বছর নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। ঐ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩০* ও ৩২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে আরও একবার ১০২ রান খরচ করে মাত্র এক উইকেটের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৪১৪ রানের জয়ের অবিস্মরণীয় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। এ পর্যায়ে সফরকারীরা মাত্র চার উইকেট খরচ করেছিল। এবার তিনি ১০২ রান খরচ করলেও কোন উইকেট পাননি। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এভাবেই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। এরফলে তিনি কোন ইনিংসেই শত রানের কম খরচ করেননি ও তাঁর রান খরচ ওভারপ্রতি রান চারের নিচে নামেনি।
নিচেরসারিতে দূর্দান্ত ব্যাটসম্যান ছিলেন। বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫ ঊর্ধ্ব গড়ে দুই শতক সহযোগে রান পেয়েছেন।
টেস্টগুলো থেকে ৪৩.২৩ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ভিভিএস লক্ষ্মণের বিপক্ষে করা বলটি শতাব্দীর সেরা বলের তালিকায় ঊনবিংশ অবস্থানে ঠাঁই পায়।
