|

জনার্দন নবলে

ডিসেম্বর, ১৯০২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের ফুলগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

পুনার ভবে স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন লাভ করেন। ১৯১৮-১৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া, গোয়ালিয়র, হিন্দু, হোলকার ও রাজপুতানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩২ সালে ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে প্রথম বল মোকাবেলা করার গৌরব অর্জন করেন। ঐ সময়ের অধিকাংশ ভারতীয় ক্রিকেটারের তুলনায় ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে পারতেন। এছাড়াও, ভারতের প্রথম টেস্ট উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি, ভারতের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট থেকে বিদেয় নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিতে গ্লাভকর্মে যুক্ত থাকার অধিকারী ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে হিন্দু দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর।

বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলার ও পেন্টাগুলার প্রতিযোগিতায় হিন্দু দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলেছেন। দলগুলোর পক্ষে ধারাবাহিকভাবে ১৬ বছর স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করেছেন। এছাড়াও, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি ও ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বোম্বে জিমখানায় জ্যাক রাইডারের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ভারতীয় একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে উভয় ইনিংসে জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান। এছাড়াও ইন্দোরে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ার পক্ষে খেললেও আবারও ব্যর্থতার প্রতিচিত্র তুলে ধরেন। ১৯৪২-৪৩ মৌসুমে ইউনাইটেড প্রভিন্স ও ১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে গোয়ালিয়রের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফিতে দুই খেলায় অংশ নেন। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দল প্রথম রাউন্ড থেকে বিদেয় নেয় ও আর তাঁকে খেলতে দেখা যায়নি।

১৯৩২ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ভারতের সর্বপ্রথম টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩২ সালে সি.কে. নায়ড়ু’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৫৮ রানে জয়লাভ করেছিল। ব্যাট হাতে ১২ ও ১৩ রান তুলতে সক্ষম হন। এ সফরে ৪১টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। তবে, উক্ত ডিসমিসালের মধ্যে কেবলমাত্র লর্ডসে একটি করতে পেরেছিলেন। ইংরেজ অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিনকে ৭৯ রানে কট আউটে ফেরৎ পাঠান।

ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স তাঁর ‘দ্য কমপ্লিট হুজ হু অব টেস্ট ক্রিকেটার্স’ গ্রন্থে বিখ্যাত ব্যাটিং কিংবদন্তী জ্যাক হবস তাঁকে ঐ সময়ের অপর দুই বিখ্যাত উইকেট-রক্ষক অস্ট্রেলীয় বার্ট ওল্ডফিল্ড ও ইংরেজ জর্জ ডাকওয়ার্থের পার্শ্বে ঠাঁই দিয়েছেন। নেভিল কারডাস তাঁকে পরিচ্ছন্ন ও ক্ষিপ্রগতির পরিচায়ক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। উইজডেনে তাঁকে শীর্ষমানের উইকেট-রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ খেলার পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন।

সব মিলিয়ে ২৫ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ছিলেন। ৬৫টি খেলায় অংশ নিয়ে ১০৭ ইনিংস থেকে ১৯.১৮ গড়ে ১৯৭৬ রান তুলেন। তন্মধ্যে, নয়টি অর্ধ-শতক করেছেন। এছাড়াও, ১০১ ক্যাচ ও ৩৬ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন তিনি।

গোয়ালিয়রে সার্ভিসে যোগ দেন। পরবর্তীতে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর চিনিকলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। শেষ বয়সে এসে পুনায় দুই কক্ষবিশিষ্ট গৃহে বসবাস করতে থাকেন। ৭৭তম জন্মদিন উদযাপনের ঠিক তিন মাস পূর্বে ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে ৭৬ বছর ২৭৪ দিন বয়সে মহারাষ্ট্রের পুনায় তাঁর দেহাবসান ঘটে। কিছু সূত্রে জানা যায় যে, চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে তিনি দিনাতিপাত করেছিলেন। শেষের দিনগুলোয় বোম্বে-পুনা মহাসড়কে ভিক্ষা করতে দেখা গিয়েছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট