১৯ মে, ১৯৮১ তারিখে টারানাকির নিউ প্লাইমাউথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অনুপস্থিতিতে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে পরবর্তী তিন মৌসুমে যথাক্রমে ৭০৪, ৬৮২ ও ৫৯২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৩ সালে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২২২ রান তুলেন। এরফলে, লিস্ট-এ ক্রিকেটে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদা পান।
২০০৫ থেকে ২০১১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট, ৪১টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে সফরকারী শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে কুইন্সটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫৮ রানের মনোরম ইনিংস উপহার দেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। পিটার ফুলটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১১ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করে দলের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
পিটার ফুলটনের আঘাতপ্রাপ্তির ফলে দক্ষিণ আফ্রিকাগামী নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন। তবে, গোটা সিরিজে ডেল স্টেইনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পরের মৌসুমেও জাতীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় আসেন ও কয়েকটি ওডিআইয়ে দারুণ খেলা উপহার দেন।
২০০৮ সালে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ১৫ মে, ২০০৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, একই সফরের ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬৪ ও ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ৩৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে বীরেন্দ্র শেহবাগের নেতৃত্বাধীন ভারতের মুখোমুখি হন। ২৬ মার্চ, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মামুলী ১ রান সংগ্রহ করে জহির খানের বলে বোল্ড হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জেসি রাইডারের ২০১ রান সংগ্রহের কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটায় বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তবে, উঁচু আসরে নিজেকে পরিশীলিত করতে পারেননি। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে কর্পোরেট খাতে মনোনিবেশ ঘটাতে ২০১৪-১৫ মৌসুমের ফোর্ড ট্রফি প্রতিযোগিতা শেষে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
