১২ জুন, ১৯৫৯ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সর্বদাই চশমা পরিধান করে খেলতেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক, পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংক, করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান রেলওয়ে ও পাবলিক ওয়ার্কস ডেভেলপম্যান্টের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। হেডিংলি টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে আঘাতের কবলে পড়েন।
পরবর্তী শীতকালে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। লাহোরে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৪ অক্টোবর, ১৯৮২ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৯২ রান খরচায় পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ৩/৭৭ ও ২/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইমরান খানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
পরবর্তী দুই বছরে আরও চার টেস্টে অংশ নেন। তবে, তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তাসত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেটে চমৎকার খেলা প্রদর্শন করে চলছিলেন।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে পুণরায় পাকিস্তান দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৬ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে মাত্র এক উইকেট আদায় করে নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে. এটিই তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলায় পরিণত হয়।
বিস্ময়করভাবে ওডিআইয়ে কয়েকটি খেলায় দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে ওডিআইয়ের ইতিহাসে প্রথম হ্যাট্রিক লাভের কীর্তিগাঁথার সাথে জড়িয়ে রেখে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। নিজস্ব সপ্তম ওভারে রড মার্শ, ব্রুস ইয়ার্ডলি ও জিওফ লসনকে উপর্যুপরী বলে বিদেয় করে এ গৌরব অর্জন করেন। নিয়াজ স্টেডিয়ামে ঐ খেলায় ৪/৩২ লাভ করেছিলেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে পাকিস্তানের মহিলা ক্রিকেট দলের দল নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে মনোনীত হন।
