|

জহুরুল ইসলাম

১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং এবং উইকেট-রক্ষকেরও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘অমি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ, উত্তরাঞ্চল ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দূরন্ত রাজশাহী, জেমকন খুলনা ও রংপুর র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০০২-০৩ মৌসুমে রাজশাহী বিভাগীয় দলের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। ঐ দলে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময় কাটান। এক সময় বাংলাদেশ একাডেমি দলের সদস্য ছিলেন। একই মৌসুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৮৭ রান করেন। নিজ বিভাগীয় দলের পক্ষে দু’টি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেন। তন্মধ্যে, বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, একদিনের খেলায় ঢাকা বিভাগীয় দলের বিরুদ্ধে ৭১ রান সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। জাতীয় ক্রিকেট লীগের প্রথম-শ্রেণীভুক্ত খেলায় রাজশাহী বিভাগের পক্ষে ৬৮.৯২ গড়ে সবচেয়ে বেশি ৯৬৫ রান তুলেছিলেন। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এছাড়াও, ২০০৯-১০ মৌসুমে শিরোপা জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

২০১০ থেকে ২০১৩ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট, ১৪টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১০ মার্চ, ২০১০ তারিখে রাকিবুল হাসানের আকস্মিকভাবে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হবার পথ সুগম হয়।

২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২০ মার্চ, ২০১০ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম অংশগ্রহণ করেন। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও পরের ইনিংসে ৪৩ রান করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এরপর ফিরতি সফরে লর্ডসে ব্যক্তিগত সেরা ৪৬ রান তুলেন। এ সফরের পর দল থেকে বাদ পড়েন।

২০১০ সালের এশিয়া কাপে অংশ নেন। ২১ জুন, ২০১০ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক হলেও তেমন ভালো খেলেননি। ২০১২ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে একট অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০১২ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বাংলাদেশের টি২০আই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ৫ মে, ২০১০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে নিজস্ব প্রথম খেলায় অংশ নেন।

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে, টেস্ট ও ওডিআইয়ে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এরফলে, তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। মার্চ, ২০১৩ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৫ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ও ২ রান তুলে দলের ১৪৩ রানের বিজয়ে অংশ নেন। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়। তবে, অংশগ্রহণকৃত কোন টেস্টেই অর্ধ-শতকের সন্ধান পাননি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে দূরন্ত রাজশাহীর পক্ষে খেলেছেন। ২০১৩ সালের নিলামে $১১১,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। নক-আউট পর্বে দলের উত্তরণ ঘটলেও খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলের কাছে পরাজিত হয়। বিসিবি’র অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অংশ নিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের ম্যাচ ফি’র ৫০% জরিমানার কবলে পড়েন। এছাড়াও, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটলে দুই খেলায় নিষিদ্ধ ঘোষণার কথা জানানো হয়। সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দিবা-রাত্রির ১৬ ওভারের খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। একই দিনে তিন বছর দলের বাইরে থাকার পর তাঁকে শ্রীলঙ্কা সফরে ১৫ সদস্যের টেস্ট দলে রাখা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের চূড়ান্ত খেলা শেষে পরদিন প্রায় একাকী উত্তরাঞ্চলকে জয় এনে দেন। এরফলে, কেন্দ্রীয়ভাবে ‘গ’ শ্রেণীভূক্ত চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় তিনি।

Similar Posts

  • |

    ডেরিক প্যারি

    ২২ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে নেভিসের কটন গ্রাউন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দৃশ্যতঃ অফ-স্পিনার হিসেবে খেললেও তাঁর ব্যাটিংয়ের মান উন্নততর থাকায় তাঁকে অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত করা হয়ে থাকে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে কম্বাইন্ড আইল্যান্ডস…

  • |

    নাভেদ আশরাফ

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, রাওয়ালপিন্ডি ও রেডকো পাকিস্তান লিমিটেডের…

  • |

    জর্জ ডকরেল

    ২২ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থা থেকে উত্তরণের পর দূর্লভ প্রতিভাবান বামহাতি স্পিনার হিসেবে চিহ্নিত হন। ১৭ বছর বয়সে ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৩১…

  • | | |

    মুশতাক মোহাম্মদ

    ২২ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাটের জুনাগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • |

    শাই হোপ

    ১০ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। কুইন্স কলেজ ও সেন্ট বেডেস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বেশ উচ্চ মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • |

    জন নিয়ুম্বু

    ৩১ মে, ১৯৮৫ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সম্মুখসারিতে ডানহাতে অফ-স্পিন বোলিং করেন। কঠোর পরিশ্রমী বোলার হিসেবে পরিচিত। দলীয় অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রিমারের সাথে বোলিং জুটি গড়ে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম…