|

জ্যাকোবাস ডুমিনি

১৬ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের বেলভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২০ সালে রোডস বৃত্তিধারী হিসেবে অক্সফোর্ডে অধ্যয়ন করেন। ১৯১৯-২০ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে ৩০তম জন্মদিনের এক সপ্তাহ পূর্বে মুখোমুখি হন। প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ট্রান্সভালের সদস্যরূপে খেলেন। প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ফিরতি খেলায় ৫৫ ও অপরাজিত ৭৪ রান তুলে টেস্ট দলে নিজেকে ঠাঁই করে নেন।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে বর্ডারের বিপক্ষে অপরাজিত শতক হাঁকানোসহ ডানহাতে ধীরলয়ে বোলিং করে ৬/৪০ পান। কিন্তু, অপরাপর যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় তেমন সন্তোষজনক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে না পারায় ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে উপেক্ষা করা হয়। এর পরিবর্তে তিনি সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে যান।

১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিজ দেশে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জক ক্যামেরন, শান্টার কোয়েন, হেনরি প্রমিৎজ, ডেনিস মরকেল ও সিরিল ভিনসেন্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৭ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় কখনো নিজের ব্যাটিং প্রতিভার উন্মোচন ঘটাতে পারেননি। তন্মধ্যে, ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে তিন ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু, কোনটিতেই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

১৯২৯ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক ইংল্যান্ড সফরে যায়। এ পর্যায়ে তিনি ইউরোপ সফরে ছিলেন ও জরুরীভিত্তিতে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ২ ও ১২ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, একহাতে মরিস লেল্যান্ডের ক্যাচ গালি অঞ্চলে তালুবন্দী করে সবিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ‘অধ্যাপক ডুমিনি’ নামে পরিচিতি পান। কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন। বর্ণবৈষম্যবাদ বিরোধী ভূমিকা রাখেন। অন্যান্যদের সাথে নিয়ে তরুণদের ক্রিকেট সপ্তাহ পালনে অংশ নেন।

৩১ জানুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের গ্রুট শ্যুর এলাকায় ৮২ বছর ৪৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    আলফ্রেড আর্চার

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৭১ তারিখে সারের রিচমন্ড-আপোন-টেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হেইলিবারিভিত্তিক বিদ্যালয় দলের প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। তবে, ওরচেস্টারশায়ার কোল্টসের পক্ষে এক খেলায় অংশগ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হুবার্টের তুলনায় ভালো খেলতেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ১৯০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    স্টিভেন জ্যাক

    ৪ আগস্ট, ১৯৭০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন ও আক্রমণাত্মক বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…

  • | | | | |

    সুনীল গাভাস্কার

    ১০ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন ও সন্দেহাতীতভাবেই সর্বশ্রেষ্ঠ ডানহাতি ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা লাভ করছেন।…

  • | |

    কলিন স্নেডেন

    ৭ জানুয়ারি, ১৯১৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী তারকা ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মিডিয়াম-পেসের ন্যায় ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। প্রায়শঃই নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের…

  • | | | |

    মঈন খান

    ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতার কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দলের বিপর্যয় রোধে নিচেরসারিতে বেশ তৎপরতা দেখিয়েছিলেন। একদিনের ক্রিকেটে দ্রুতলয়ে পদ সঞ্চালনে ভূমিকা রাখতেন।…

  • |

    হর্ষিত রাণা

    ২২ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯…