২৩ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বার্বাডোসের হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, রাগবি স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ও ওয়ারউইকশায়ার দ্বিতীয় একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্মিংহাম ফোনিক্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, পার্ল রয়্যালস, ওয়েলশ ফায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে লিডসে ওয়ারউইকশায়ার বনাম ইয়র্কশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর অংশ নেন।
কার্ডিফের শুক্রবারের রাতের কনকনে শীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেন। ২০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের পক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় বিশ্বের অন্যতম সাদা-বলের সেরা বোলার অ্যাডাম জাম্পা’র এক ওভার থেকে ২০ রান আদায় করে নেন। ১৯৪ রানের সফল লক্ষ্যমাত্রায় লিয়াম লিভিংস্টোনকে সাথে নিয়ে ৪৭ বল থেকে ৯০ রান যোগ করেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের পরবর্তী সফরে তিনটি অপরাজিত অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে থাকেন। খুব শীঘ্রই নিউজিল্যান্ড সফরে তাঁকে যুক্ত করা হয়।
জীবনের অপর প্রান্তে থেকে তাঁর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। বার্বাডোসে তাঁর জন্ম ও সেখানেই তিনি বড় হতে থাকেন। তবে, রাগবি স্কুলের বৃত্তি লাভ করে ১৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। দ্রুত ওয়ারউইকশায়ারের যুবদের দলে যোগ দেন ও ২০২১ সালের শুরুতে ১৭ বছর বয়সে পেশাদারী পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ হন। ঐ বছরের শেষদিকে টি২০ ব্ল্যাস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন। ২০২২ সালের শুরুরদিকে ঐ প্রতিযোগিতায় দলটি চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়। তন্মধ্যে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে ৪২ বলে ৮৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
পরবর্তী দুই বছরের অধিক সময় ধরে নিজের উত্থানপর্বটি ক্রমাগত ধরে রাখেন। ২০২৪ সালে তাঁর স্মরণীয় মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে ব্লাস্টে ও বার্মিংহাম ফোনিক্সের পক্ষে হান্ড্রেডসে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী টি২০ খেলার জগতেও তিনি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। মেলবোর্ন রেনেগাডেস, পার্ল রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।
ব্যাটিং অল-রাউন্ডার জ্যাকব বেথেল সহজাত প্রবৃত্তির বামহাতি ব্যাটসম্যান। খেলার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থেকে নিজেকে ঝালাই করেন। সর্বদাই নির্দিষ্ট সীমানায় ও সীমানা বরাবর – উভয় ক্ষেত্রেই মিতব্যয়ী বামহাতি স্পিনার ও তড়িৎগতিতে ফিল্ডিং করেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ৫০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্রাইডন কার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ডিজে মিচেলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ০/৫। খেলায় তিনি ৩/৭২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৭৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল স্যান্টনারের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪২৩ রানের বিরাট ব্যবধানে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফো’র ২০২৪ সালের সেরা সাতজন পুরুষ তরুণ অভিষেকধারীর পুরস্কারের জন্যে মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আল্লাহ গজনফর, ধ্রুব জুরেল, নাহিদ রানা, নীতিশ কুমার রেড্ডি, অটনিল বার্টম্যান ও শামার যোসেফের সাথে তাঁকে রাখা হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ১০ ও ১৫৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫২ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
